মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কয়রার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে সাকবাড়িয়া নদীর তীরে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বক্তাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে বনদস্যুরা জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে এবং টোকেন ছাড়া বনে ঢুকলে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে। বক্তারা দস্যুদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।#Sundarbans #Koyra #Khulna #BangladeshNews #MeehaNews

সাকবাড়িয়া নদীর তীরে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন
সাকবাড়িয়া নদীর তীরে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দস্যুদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে খুলনার কয়রায় মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে সাকবাড়িয়া নদীর তীরে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এবং কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম। এরপর বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আ ব ম আব্দুল মালেক, নাগরিক সংগঠন সুজনের কয়রা উপজেলা সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম আনোয়ার হোসেন, কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিদেশ রঞ্জন মৃধা, কয়রা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সহসভাপতি জি এম মোনায়েম, কয়রা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও বনজীবী মুছানুর রহমান। মানববন্ধনে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনী জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাঁদের অভিযোগ, বনদস্যুদের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মাছ ব্যবসায়ীও এসব কাজে সহযোগিতা করছেন।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দস্যুদের সহযোগীদের মাধ্যমে দুই ও পাঁচ টাকার নোটের নম্বরকে টোকেন হিসেবে ব্যবহার করে বনজীবীদের বনে ঢুকতে হচ্ছে। এ জন্য জেলেদের আগাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। টোকেন ছাড়া বনে ঢুকলে দস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। ফলে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া বনজীবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা বনদস্যুদের কারণে হুমকির মুখে। সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে দস্যুদের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি জানান তিনি।

অন্য বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক দাবি নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাঁরা দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে এ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালানো, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারীদের শনাক্ত করা এবং সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা চালানোর পরিবেশ ফিরে আসবে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

হাফিজুর রহমান

জেলা প্রতিনিধি

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।