যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আশায় তেলের দাম কমল, ব্রেন্ট নামল ১১৪ ডলারে
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুড ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ১০ সেন্টে এবং ডব্লিউটিআই ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১০১ ডলার ৪৫ সেন্টে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর। এতে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ও আশঙ্কায় সৌদি আরবের তেলস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ আছে, ফলে দাম কমার পরিমাণ সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে।#OilPrice #BrentCrude #USIran #MeehaNews

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent crude) ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। রয়টার্সের বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
ব্রেন্টের দাম ১ ডলার ২২ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ১০ সেন্টে নেমেছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ৩৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে হয়েছে ১০১ ডলার ৪৫ সেন্ট। আগের দিন বুধবার ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ, ডব্লিউটিআইয়ের ৩ শতাংশ।
বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানায়, শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি দিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এতে এমন কিছু ধারণা আছে, যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেন, আলোচনা আবার শুরুর প্রত্যাশায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার আশঙ্কায় দাম কমার পরিমাণ সীমিত।
বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে আসছিল। জোটের দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার হুতিরা এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। আগের দিন হুতিরা সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এর নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদির মতো বড় উৎপাদকের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ কমতে পারে। ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কাও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ আসছে রাশিয়া থেকেও। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার শোধনাগারে তেল পরিশোধন দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে দেশটির অপরিশোধিত তেলের উৎপাদনও বাড়তে পারে। এর আগে উৎপাদন দৈনিক ৮৪ লাখ ব্যারেলে নেমেছিল, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানি একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যে, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ১৫ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। একই সপ্তাহে পেট্রোলের মজুত বেড়েছে ৩৯ লাখ ব্যারেল, অথচ পূর্বাভাস ছিল ৯ লাখ ব্যারেল কমার।





