ইসরায়েলের ভোটে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাস: নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, আইজেনকটের ৪৮, আরব দলগুলো ১৯ আসনে
প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসনে, গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮ আসনে; সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন। আরব দলগুলো রেকর্ড ১৯ আসন পেতে যাচ্ছে; তাদের সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠন কার্যত অসম্ভব। নতুন সরকার না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের হার ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ; লিকুদ আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছে।#Israel #Netanyahu #IsraelElection #Eisenkot #MeehaNews

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে বিরোধীরাও এখনই তাঁকে সরানোর মতো অবস্থানে নেই। ফলে নতুন সরকার না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের বরাতে প্রথম আলো এ খবর দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসনে এগিয়ে। এ জোটে ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) দল আছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পাচ্ছে ৪৮ আসন। সরকার গঠনে দরকার ৬১ আসন। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দুই জোটের কোনোটিই এ সংখ্যার কাছাকাছি নেই।
নির্ণায়ক ভূমিকায় আছে আরব দলগুলো। তারা নজিরবিহীনভাবে ১৯ আসন পাচ্ছে, আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৫। এই সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠন কার্যত অসম্ভব। কিন্তু ইসরায়েলের অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে এমন সমীকরণে রাজি নন। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির বেশির ভাগ ইহুদি নেতা তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট এড়িয়ে চলেছেন। আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে সরাতে রাজনৈতিক সহযোগিতায় তাঁরা প্রস্তুত। টাইমস অব ইসরায়েলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিরোধী নেতাদের আরব দলের ওপর নির্ভর করতে অনীহা শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচন বা ঐক্যের সরকারের দিকে নিতে পারে।
আইজেনকট স্বীকার করেছেন, নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন। তিনি নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন, নেতানিয়াহুর ম্যান্ডেট (জনগণের রায়) বা জনআস্থা নেই; তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো চেষ্টার মুখে তাঁরা যেন অবিচল থাকেন। আইজেনকট সতর্ক করেছেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পূর্ণ ক্ষমতা তার থাকবে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো গাই লুরি বলেন, এ ধরনের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সরকারের মতোই ক্ষমতা ভোগ করে; তবে ‘সংযম বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা’ থাকে।
ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে ভোটের হার ছিল বিশেষভাবে বেশি; জনসংখ্যায় তাঁরা এক-পঞ্চমাংশের বেশি।
গণনা এখনো চলছে, তাই ফল বদলাতে পারে। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, সেনা, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের ‘ডাবল এনভেলাপ’ ভোট বুধবার রাত থেকে গণনা শুরু হয়েছে। এসব ব্যালটে আসনসংখ্যা কিছুটা বদলাতে পারে, তবে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর সম্ভাবনা কম বলে ওই প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লিকুদ দাবি করেছে, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। জুইশ নিউজের তথ্যমতে, নির্বাচন কমিটি লিকুদের ভোট জালিয়াতির এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।





