মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে এক সপ্তাহের অভিযানের প্রস্তুতি, দাবি অ্যাক্সিওসের
অ্যাক্সিওসের বরাতে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে এক সপ্তাহের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ইরানের নেতৃত্ব, জ্বালানি স্থাপনা, পারমাণবিক কেন্দ্র ও অবকাঠামো। কাতারের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীরা জাতিসংঘ পরিদর্শকদের প্রবেশের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দিচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি হরমুজ প্রণালি খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন।#Iran #USA #Israel #StraitOfHormuz #MeehaNews

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর দিয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর এ অভিযান শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে দ্য নিউ আরব জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় হামলার দিকে ঝুঁকলেও এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব, জ্বালানি স্থাপনা, পারমাণবিক কেন্দ্র ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে। সোমবার এ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
এর মধ্যেই সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। কাতারের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টায় সহযোগিতা করছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে ইরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। বিনিময়ে কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব আছে। সংবাদমাধ্যমটির বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে সতর্ক করেছেন যে প্রস্তাব না মানলে নির্বাচনের পর বড় হামলা এড়ানো কঠিন হতে পারে। সৌদি আরবও ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপের আগে আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে বলেছে। ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, তবে তা সফল হবে কি না, নিশ্চিত নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এ জন্য ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, আর তা এক সপ্তাহেরও কম সময়ে বাস্তবায়নের সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন। বিস্তারিত তিনি বলেননি। সেপ্টেম্বরে ইরান এ প্রস্তাব দেয়। ১৮ অক্টোবরও আরাগচি জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবটি বহাল আছে। প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত বন্ধ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। এরপর বৃহত্তর সমঝোতার আলোচনা শুরু হতে পারে।
আলোচনার বড় বাধা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ বিষয়টি আলোচনায় তুলতে চায়। ইরান জোর দিচ্ছে আগে হরমুজ প্রণালি খোলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতার সর্বশেষ ধারণাগুলোর মধ্যে ইরান শুধু ‘অগ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাবই দেখছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। ফলে এ নৌপথ ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।





