সৌদির ইস্টার্ন প্রভিন্স ও দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, সবই ধ্বংসের দাবি জোটের
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিরা ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন ছুড়েছে; সব কটি ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করে, পরে বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানায়। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির একটি দ্বীপ দখল করার পর সৌদি আরব হামলা জোরদার করেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুপক্ষ নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।#HouthiAttack #SaudiArabia #Yemen #MiddleEast #MeehaNews

সৌদি আরবের দুটি অঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আজ মঙ্গলবার জোটটি জানায়, হুতিরা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ (ইস্টার্ন প্রভিন্স) লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন ছুড়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির বরাতে এ খবর জানিয়েছে প্রথম আলো।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক্সে লিখেছেন, তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের’ ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে সম্ভাব্য শত্রুতামূলক হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায়, দুই এলাকাতেই বিপদ কেটে গেছে।
লড়াই গত কয়েক দিনে আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল সোমবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দাবি করেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সৌদির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশনেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি জানান। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করে। আল-মালকির ভাষ্য, এর একটি রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ সুড়ঙ্গ, চারটি লঞ্চার ও একটি অস্ত্রাগারেও হামলা হয়েছে বলে জোট দাবি করেছে। হুতিদের অভিযোগ, তাদের অবস্থানে হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী।
গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যায়। প্রণালির ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলের পর প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে তাদের হাতে চলে গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরপরই সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তাতে লড়াই অনেকটাই থেমে গিয়েছিল। সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুপক্ষ আবার লড়াইয়ে জড়িয়েছে। ইরানকে সমর্থন জানিয়ে হুতিরা সৌদির বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।





