শৈশবে বাদাম বিক্রি, এখন চতুর্থবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা
দ্বিতীয় দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুলা, পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দফায় জেতার নজির আধুনিক ব্রাজিলে আগে ছিল না। শৈশবে জুতা পালিশ ও বাদাম বিক্রি করা লুলা পরে কারখানাশ্রমিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হন। ফ্লাভিওর দল প্রথম দফায় কংগ্রেসে ভালো করায় নতুন মেয়াদে লুলাকে খণ্ডিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হতে পারে।#Lula #BrazilElection #LulaDaSilva #MeehaNews

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার (২৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার ভোটে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে অল্প ব্যবধানে হারিয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা। ২৭ অক্টোবর তাঁর বয়স ৮১ বছর হবে।
আল-জাজিরার বরাতে সময়ের আলো জানিয়েছে, ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট, ফ্লাভিও ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। লুলার পক্ষে ভোট পড়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি, ব্যবধান প্রায় ৪০ লাখ। ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালত লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
৪ অক্টোবরের প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছিলেন ৪৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, লুলা ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ। আধুনিক ব্রাজিলে প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দফায় জয়ের নজির আগে ছিল না। রয়টার্সের ভাষ্য, জনমত জরিপ ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মনোভাবকে ভুল প্রমাণ করে এ জয় এসেছে।
কে এই লুলা
এএফপির বরাতে বাসস জানিয়েছে, শৈশবে জুতা পালিশ ও বাদাম বিক্রি করতেন লুলা। পরে ধাতব কারখানার শ্রমিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হন। ১৯৬০-এর দশকে কর্মস্থলের এক দুর্ঘটনায় তাঁর একটি আঙুল কেটে যায়।
বিবিসির বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিলের বামপন্থী রাজনীতির প্রধান মুখ তিনি। দেশ টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছেন। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে জিতে ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলার তথ্যমতে, ২০১৮ সালে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫৮০ দিন কারাভোগ করেন লুলা।
প্রতিদ্বন্দ্বী ও সামনের চ্যালেঞ্জ
ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে। সময়ের আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফায় তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ভালো ফল করেছে। ফলে আইন প্রণয়ন ও সরকার পরিচালনায় লুলাকে তুলনামূলক খণ্ডিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিবিসির বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, নতুন মেয়াদে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দিক থেকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হবে লুলাকে। দক্ষিণ আমেরিকার বড় দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলই একমাত্র, যেখানে ডানপন্থী সরকার নেই। চতুর্থ মেয়াদ শেষে লুলার বয়স হবে ৮৫ বছর।





