এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে খালি হাতে ফিরছে লিটন দাসের বাংলাদেশ। জাপানের নিশিনে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭.২ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় দল। শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনই ফেরেন শূন্য রানে। সর্বশেষ পাঁচ আন্তর্জাতিক ইনিংসের চারটিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন লিটন। সর্বোচ্চ ২৬ রান আসে স্পিনার নাসুম আহমেদের ব্যাট থেকে।
টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ—১০ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে বেঁধে ফেলেছিল ৪ উইকেট হারিয়ে। তবে থারিন্দু রত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ম্যাচ ঘুরে যায়; মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের দুই ওভারেই আসে ৪১ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। এর আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। গত তিন আসরে প্রতিবারই পদক জেতা বাংলাদেশের জন্য এবারের ব্যর্থতা তাই আরও বড় ধাক্কা—২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতেছিল দলটি।
হতাশাজনক এই বিদায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, কোচ হিসেবে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় লজ্জিত। ম্যাচ শেষে লিটন দাস নিজেও দায় স্বীকার করে বলেন, “আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি,” তবে রত্নায়েকের ইনিংসকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি তিনি।
ব্যর্থতার পরও নেতৃত্ব ছাড়ার প্রশ্নে স্পষ্ট জানিয়ে দেন লিটন—পদত্যাগ করার কোনো মানে হয় না, ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকেই। পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে সরবরাহ করা খাবার ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি, জানান খাবার অনুপযোগী হওয়ায় খেলোয়াড়দের বাইরে গিয়ে খেতে হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাচের চতুর্থ ওভারে রিভিউ প্রযুক্তির অভাবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে গেলেও তাতে ম্যাচের ফলে কোনো হেরফের হয়নি।
















মন্তব্য করুন