২৮ বছর পর হেঁটে বিশ্ব ঘুরে মায়ের বাড়িতে ফিরলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি
যুক্তরাজ্যের অভিযাত্রী কার্ল বুশবি (৫৭) প্রায় ২৮ বছর হেঁটে ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের হালে ফিরেছেন। ১৯৯৮ সালে চিলি থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি জঙ্গল, বরফ ও সাগর পেরিয়েছেন। পুরো ভ্রমণে মোটরচালিত যান ব্যবহার করেননি। পথে পানামায় কারাবাস, মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে পড়া এবং রাশিয়ায় আটকের মতো ঘটনা ঘটেছে। যাত্রা নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হচ্ছে।#KarlBushby #Adventure #UK #WorldWalk #MeehaNews

প্রায় ২৮ বছর হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষ করে নিজ শহরে ফিরেছেন যুক্তরাজ্যের অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। ৫৭ বছর বয়সী এই সাবেক সেনাসদস্য ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের হাল শহরে শৈশবের বাড়িতে পৌঁছান।
১৯৯৮ সালের নভেম্বরে চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। এরপর মধ্য আমেরিকার জঙ্গল পেরিয়েছেন, আলাস্কা থেকে রাশিয়ায় হেঁটেছেন বরফের ওপর দিয়ে। কাস্পিয়ান সাগর সাঁতরে পার হয়েছেন। গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হয়ে যাত্রার শেষ ধাপে ঢোকেন। পুরো পথে কোনো মোটরচালিত যান ব্যবহার করেননি।
সোমবার সকালে হালের একটি চত্বরে শত শত মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। হামবার সেতু পেরিয়ে তিনি হালে ঢোকেন। উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বুশবি বলেন, ২৮ বছর পর এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এরপর জিনিসপত্র একটি ছোট গাড়িতে তুলে বাড়ির পথ ধরেন। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর মা অ্যাঞ্জেলা, ৩৬ বছর বয়সী ছেলে ও ১২ বছর বয়সী নাতনি।
বিশের দশকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারাশুট রেজিমেন্টে কাজ করতেন বুশবি। বিবাহবিচ্ছেদের পর একদিন বিশ্ব মানচিত্রে একটি রেখা টেনে যাত্রা শুরু করেন। লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া সম্ভব কি না, তাঁর বাবা একসময় এমন ভেবেছিলেন। সেই ভাবনাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে।
শুরুতে ১০ বছরে ভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু পথে বাধা এসেছে বারবার। পানামায় কিছুদিন কারাবন্দী ছিলেন। মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে পড়েছেন। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগে রাশিয়ায় আটক হন। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট ও করোনাভাইরাস মহামারিতেও যাত্রা পিছিয়েছে।
বুশবি বিবিসিকে জানান, ২৮ বছরের প্রায় ১৫ বছর তিনি হেঁটেছেন। ভিসা, প্রস্তুতি ও পৃষ্ঠপোষকতার কাজ সামলাতে কয়েক দফায় মেক্সিকোতে ফিরতে হয়েছে।
যাত্রা নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ইংল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনাও আছে তাঁর।





