‘ভোট চুরি’র অভিযোগ, এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমার: ভারতের সিইসির পদত্যাগ দাবির নেপথ্যে কী
বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি তা অস্বীকার করেছে। কমিশনের তথ্যে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ১৩ দশমিক ৩ কোটি নামের ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা অন্যান্য’ কারণে, ২১ শতাংশ মৃত্যুর কারণে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৩…

নির্বাচন কমিশনের হাতে নিজস্ব সেনাবাহিনী নেই, কোষাগারও নেই। তার একমাত্র মূলধন আস্থা। দলগুলো হারলে ফল মেনে নেয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে রেফারি নিরপেক্ষ। এই বিশ্বাস সহজে গড়ে ওঠে না, কিন্তু ক্ষয় হতে শুরু করলে দ্রুত হয়। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিরোধী শিবির যখন সংসদ থেকে রাজপথে নেমেছে, তখন মূল প্রশ্নটি একজন ব্যক্তির চেয়ে বড়। প্রশ্নটি হলো, পৃথিবীর বৃহত্তম ভোটার তালিকা যে প্রতিষ্ঠান সামলায়, সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা কতটা অক্ষত আছে।
বিতর্কের সূচনা ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বাছাই কমিটির বৈঠক বসে। কমিটিতে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতের ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে হরিয়ানার সাবেক মুখ্যসচিব বিবেক যোশীকে নির্বাচন কমিশনার করা হয়। রাহুল গান্ধী বৈঠকে লিখিত আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, নিয়োগ আইনের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি মাত্র দুই দিন পর, ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত। এমন অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ দেওয়া আদালতের প্রতি অসম্মান। তিনি একে ‘মধ্যরাতের সিদ্ধান্ত’ বলেছেন। সোমবার রাতেই নাম চূড়ান্ত হয়, আর আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ কার্যকর হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে (উইওন)। বিজেপির পক্ষ থেকে রাহুলের আপত্তিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে। পরের মাসগুলোর প্রায় প্রতিটি সংঘাতের সূত্র এই রাতের সিদ্ধান্তেই ফিরে যায়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি ইতিহাস না বুঝলে এই অসন্তোষের গভীরতা বোঝা যাবে না। ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। তবে সংসদ স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেই ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে কোনো আইন করেনি (এডিআর)। ফলে বাস্তবে নিয়োগ হতো সরকারের সুপারিশে, যা সাবেক সিইসি এস ওয়াই কুরাইশির ভাষায় গণতান্ত্রিক বিশ্বে অন্যতম দুর্বল ব্যবস্থা। ২০২৩ সালের ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ অনুপ বারানওয়াল মামলার রায়ে নির্দেশ দেয়, সংসদ আইন না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে সংসদ নতুন আইন পাস করে, যেখানে প্রধান বিচারপতির জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বসানো হয়। কমিটিতে এখন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মনোনীত মন্ত্রী এক পক্ষে, বিরোধীদলীয় নেতা অন্য পক্ষে। দুই-এক ভোটে সরকারের সিদ্ধান্ত পাস হয়ে যায়, বিরোধী নেতার ভূমিকা কার্যত আপত্তি জানানোর। কোনো সরকারের ব্যক্তিগত অসততা ছাড়াই এই গঠন সরকারের নিয়ন্ত্রণ আইনের কাঠামোয় বসিয়ে দিয়েছে। এটি একটি কাঠামোগত দুর্বলতা, কোনো একক চক্রান্ত নয়।
এই নতুন আইনের আওতায় প্রথম নিয়োগ হয় ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ, যখন নির্বাচন কমিশনার অনুপ চন্দ্র পাণ্ডে অবসরে যান এবং অরুণ গোয়েল আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন। সেদিন জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধু নির্বাচন কমিশনার হন। লোকসভার তৎকালীন কংগ্রেস দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বৈঠকে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ছয় নামের তালিকা তাঁকে বৈঠকের মাত্র দশ মিনিট আগে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ তাঁর নিজের। সরকারের পক্ষ থেকে তখনকার ব্যাখ্যা সংগৃহীত সূত্রে মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট ওই নিয়োগ স্থগিত করতে রাজি হয়নি, যা শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষকেরা এখন মামলার ‘বিলম্বের মূল্য’ হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তি জ্ঞানেশ কুমার ১৯৮৮ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইএএস কর্মকর্তা। তিনি সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন এবং ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জম্মু ও কাশ্মীর বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন । বিরোধী কোয়ালিশনের অভিযোগ, তিনি ‘বিজেপির মুখপাত্রের মতো’ আচরণ করছেন। এই অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্য, কোনো আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত নয়। সংগৃহীত তথ্যে তাঁর কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতার দলিলও মেলেনি।
অভিযোগের দ্বিতীয় স্তর শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। ৭ আগস্ট রাহুল গান্ধী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা আসনের মহাদেবপুরা বিধানসভা অংশে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ২৫০টি ‘চুরি হওয়া’ ভোট ছিল। কংগ্রেসের ছয় মাসের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তিনি এ সংখ্যা দেন। তাঁর হিসাবে ১১ হাজার ৯৬৫টি একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত ভোটার, ৪০ হাজার ৯টি ভুয়া বা অবৈধ ঠিকানার ভোটার, ১০ হাজার ৪৫২টি একই ঠিকানায় থাকা ‘বাল্ক’ ভোটার, ৪ হাজার ১৩২টি অবৈধ ছবির ভোটার এবং নতুন ভোটারদের ফর্ম ৬ ব্যবহার করে ৩৩ হাজার ৬৯২টি নিবন্ধন। বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল ৩২ হাজার ৭০৭ ভোট, আর রাহুলের ভাষ্য অনুযায়ী মহাদেবপুরা অংশেই কংগ্রেস পিছিয়ে ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৬ ভোটে। এই পরিসংখ্যান রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের, কমিশনের কোনো তদন্তে যাচাই-করা তথ্য নয়। কমিশন ওই দিনই কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার মাধ্যমে রাহুলকে নির্বাচক নিবন্ধন বিধিমালার ২০(৩)(খ) ধারায় শপথ করে ঘোষণা দিতে বলে। তা না হলে ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ’ করতে বলা হয়। কংগ্রেসের আইনজীবীরা এর জবাবে বলেন, অভিযোগকারী নাগরিকের কাছে লক্ষাধিক ব্যক্তিগত মামলা যাচাইয়ের দায় চাপানো অবাস্তব। তাঁদের তুলনা, ডাকাতির অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ চোরদের না খুঁজে নালিশকারীর কাছে হলফনামা চাইছে। কুরাইশি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, কমিশনের উচিত ছিল রাহুলের ওপর ‘চিৎকার’ না করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া।
কমিশনের দিকে একই তথ্যের অন্য ব্যাখ্যা আছে। কমিশনের সূত্র বলেছে, হরিয়ানার ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাহুলের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, কারণ ওই রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা ২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক দাবি ও আপত্তি জমা পড়েছিল এবং ২০ হাজারের বেশি বুথ-স্তরের কর্মকর্তা এতে যুক্ত ছিলেন। তবু দলীয় বুথ এজেন্টদের কেউ আপত্তি তোলেননি। ১৭ আগস্ট রোববার সংবাদ সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমার রাহুলকে সাত দিনের মধ্যে হলফনামা দিতে বা দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন। সেদিন তিনি অন্য কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনকে সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিটাস ‘বিরোধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা’ বলেছিলেন। পরের দিন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা প্রথমবারের মতো কমিশনারকে অপসারণের কথা তোলেন। সংখ্যা ও পদ্ধতি নিয়ে এই দুই বক্তব্যের কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিরীক্ষিত হয়নি। কর্ণাটকের আলান্দ আসনে ২০২৩ সালে ৬ হাজার ১৮টি ভোট মুছে ফেলার আবেদন জমা পড়েছিল। কমিশন বলেছে, যাচাইয়ে এর মাত্র ২৪টি বৈধ ও ৫ হাজার ৯৯৪টি বাতিল হয়। কর্ণাটক সিআইডির তদন্তে সহযোগিতার অভিযোগ কমিশন ও রাহুল গান্ধী পরস্পরবিরোধী ভাষায় করেছেন, এবং মহারাষ্ট্রের রাজুরা আসনে ৭ হাজার ৭৯২টি নতুন নিবন্ধন আবেদনের ৬ হাজার ৮৬১টি বাতিলের কথা কমিশন জানিয়েছে। এই তথ্যগুলো আসলে একটি জিনিসই দেখায়, জালিয়াতির চেষ্টা বাস্তব ছিল এবং ধরা পড়েছিল। কিন্তু তা ধরে নেওয়া যায় না যে চেষ্টাগুলো ফলে সফল হয়েছিল, আর সফল না হওয়াও প্রমাণ নয় যে ব্যবস্থা নিখুঁত।
২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহারে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) ঘোষণা হয়, সেখান থেকেই বিতর্ক আইনি লড়াইয়ে ঢোকে। ১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ছিল ৭ দশমিক ২৪ কোটি ভোটার, অর্থাৎ ৭ দশমিক ৮৯ কোটি থেকে প্রায় ৬৫ লাখ নাম বাদ পড়ে। কমিশন বলেছিল, প্রায় ৬ দশমিক ৫ কোটি ভোটারকে কোনো নথি জমা দিতে হয়নি, কারণ তাঁদের বা তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ২০০৩ সালের তালিকায় ছিল। ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট বাদ পড়া ৬৫ লাখ নামের তালিকা কারণসহ প্রকাশ করতে নির্দেশ দেয়। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত আধারকে ১২তম গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মানতে বলে, তবে স্পষ্ট করে যে আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমার দেশজুড়ে এসআইআরের দ্বিতীয় ধাপ ঘোষণা করেন, যা নয়টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়।
সংখ্যাগুলো বিশাল। ডেকান হেরাল্ডের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের তথ্যে প্রথম দুই ধাপ ও তৃতীয় ধাপের এ পর্যন্ত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৩ কোটি নাম। এর প্রায় ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৯ দশমিক ৫ কোটি, বাদ পড়েছে ‘অনুপস্থিত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত বা অন্যান্য’ কারণে। মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে বাদ পড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৮ কোটি (২১ শতাংশ), আর একাধিক জায়গায় নিবন্ধনের কারণে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ (৭ দশমিক ৫ শতাংশ)। উত্তর প্রদেশের খসড়া তালিকায় ১৫ দশমিক ৪৪ কোটির মধ্যে ২ দশমিক ৮৯ কোটি নাম বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে খসড়ায় বাদ ছিল ৫৮ লাখের বেশি, পরে আদালতের নির্দেশে ২৭ লাখ ভোটার অযোগ্য ঘোষিত হয়ে মোট বাদ দাঁড়ায় প্রায় ৯১ লাখে (অল ইন্ডিয়া রেডিও)। গুজরাটে খসড়ায় বাদ ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার, কেরালায় প্রায় ২৪ লাখ। কমিশন ও বিজেপির ব্যাখ্যা, এতে মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিকবার থাকা নাম বাদ পড়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের নামও ছাঁটাই হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, এর ফলে সংখ্যালঘু, অভিবাসী ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলেরা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এখানে দুই পক্ষের যুক্তিই সংখ্যার ওপর দাঁড়াতে পারে। একটি সংখ্যা যে নাম বাদ গেছে তা দেখায়, কিন্তু কোন নাম কেন বাদ গেছে, সেটা বলে না। ‘অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত’ শ্রেণির এত বড় অংশ বিপুল অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের দেশে স্বাভাবিক হতে পারে, আবার এটিই সবচেয়ে বেশি ভুলের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণি। কমিশন বলেছে, ভুলে বাদ পড়লে ভোটার নতুন করে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়েছেন, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা কয়েকটি আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি (সুপ্রিম কোর্ট অবজারভার)। এই যুক্তিও আবেদনকারীদের, রায়ে স্বীকৃত তথ্য নয়।
আইনি দিক থেকে এসআইআর কমিশনের পক্ষে বড় সমর্থন পেয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ মে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এসআইআরের সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা বহাল রাখে। বিচারকেরা বলেন, নিয়মিত সংশোধনের চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতি নেওয়াই এটিকে অবৈধ করে না, আর পদ্ধতিটি অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক নয় (সুপ্রিম কোর্ট অবজারভার)। আদালত বলেছে, ভোটার তালিকার শুদ্ধতার প্রয়োজনে কমিশন নাগরিকত্ব পরীক্ষা করতে পারে, তবে শুধু এই সীমিত উদ্দেশ্যে। নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাদ পড়াদের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ নাগরিক বলে স্বীকৃতি দিলে নাম ফিরিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ এসআইআরের বৈধতা প্রশ্নে বিরোধীরা শীর্ষ আদালতে পরাজিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ এখন প্রয়োগ ও কমিশনের আচরণের প্রশ্নে সরে এসেছে।
সেই প্রশ্নেই সবচেয়ে ভারী তথ্যটি এসেছে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। সাংবাদিক ঋতিকা চোপড়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। আপত্তির বিষয়ের মধ্যে ছিল ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন, ভোটার বাদ ও পুনর্বহাল এবং নির্বাচনী তালিকার সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার। যোশী মে মাসে সতর্ক করেন, নতুন ভোটারকে বাবা-মা ‘সর্বশেষ এসআইআরের তালিকায় আছেন কি না’ জানানো বাধ্যতামূলক করে ফর্ম ৬ বদলানো যাবে না, কিন্তু প্রশ্নটি ফর্মে থেকে গেছে। তিনি এও লিখেছেন, কমিশনের আইটি মহাপরিচালকের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার আইনি কর্তৃত্ব নেই। সান্ধু প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশনের পক্ষে কারা, কার অনুমোদনে আপিল করেছে। দুই কমিশনার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ। তাঁদের নোটে ‘বেআইনি’ ও ‘অননুমোদিত’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে বলে অন্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে (কাউন্টারকারেন্টস)। ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠের হতে হয়, তাই সিদ্ধান্ত দুই কমিশনারের অজান্তে নেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নও তোলে। কমিশন একই দিন জানায়, এসআইআরসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনে হয়েছে। আপত্তিগুলোকে কমিশন ‘পরামর্শ’ বলেছে এবং ভিন্নমতকে আলোচনার স্বাভাবিক অংশ বলেছে (উইকিপিডিয়া)। নিউজলন্ড্রির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কমিশনের জবাবে ওই ১৪টি নোটের অস্তিত্ব, তারিখ বা বিষয়বস্তু অস্বীকার করা হয়নি। সাবেক সিইসি কুরাইশি বলেছেন, কমিশনের এই বিবৃতি বরং তাদের বিরুদ্ধেই যায়, কারণ এতে কিছু ঘাটতি স্বীকার করা হয়েছে (এএনআই)। এখানেও দুই পক্ষের কথা মিলিয়ে দেখা দরকার। ভিন্নমত কমিশনের কাজের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে। কিন্তু কিছু সিদ্ধান্ত কমিশনের সামনে না এনেই নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নোট ও কার্যবিবরণী প্রকাশ ছাড়া মিলবে না।
এর পরই বিতর্ক সুশীল সমাজে ছড়িয়েছে। ৫ অক্টোবর অন্তত ১৫ জন প্রাক্তন আমলা ও কর্মী জ্ঞানেশ কুমারকে একটি ‘অভিযোগপত্র ও অপসারণ নোটিশ’ পাঠান। এতে বলা হয়, কমিশনের নামে কমিশনের সামনে না এনে নেওয়া সিদ্ধান্ত সংবিধানিক ক্ষমতার ‘মৌলিক অপব্যবহার’। স্বাক্ষরকারীদের একজন যোগেন্দ্র যাদব। আরেকটি খোলা চিঠিতে ৯৮ জন প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার কমিশনকে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হাতিয়ারে’ পরিণত করেছেন। তাঁদের অভিযোগে এসআইআরের লক্ষ্য ছিল লাখ লাখ বৈধ ভোটারকে বঞ্চিত করা, আর দুই কমিশনার ঘটনাটি ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। এগুলো যথাক্রমে ১৫ ও ৯৮ জনের অভিযোগ, প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজিব জংও কমিশনের গঠন বদলের কথা বলেছেন।
পদত্যাগ দাবির সংবিধানিক ও আইনি বাস্তবতা এখানেই ধরা পড়ে। সিইসিকে সরাতে হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো ‘প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতা’র ভিত্তিতে সংসদের উভয় কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ, সঙ্গে মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি সমর্থন লাগে। প্রস্তাব তুলতেও রাজ্যসভায় ৫০ বা লোকসভায় ১০০ জনের স্বাক্ষর দরকার। ২০২৩ সালের আইনের ১৬ ধারা সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের কর্মকালের সিদ্ধান্তের জন্য আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয়। বিরোধীরা সংখ্যায় পিছিয়ে, নিজেরাই সেটা মেনেছে। তবু তারা এ বছর প্রথমবার দুই কক্ষেই অপসারণের নোটিশ দেয়। ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আলাদাভাবে বিবেচনা করে নোটিশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন (অল ইন্ডিয়া রেডিও)। অতএব সংসদীয় পথ বন্ধ। পদত্যাগের দাবি তাই মূলত রাজনৈতিক চাপ হিসেবে থেকে গেছে। সেই চাপের শক্তি আসছে রাজপথ থেকে।

রাজপথে আন্দোলনের নেতৃত্বে আছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), যাকে প্রথম আলো ‘তরুণদের রাজনৈতিক আন্দোলন’ বলে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গড়ে উঠে পরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নামে। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে তারা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ ঘোষণা করে এবং ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দেয়। ৯ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবি জানায় এবং ২০২৩ সালের আইন বাতিলসহ চার দফা স্মারকলিপি দেয়। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের আবেদন অন্তত ১০ দিন আগে করতে হয়, আর সিজেপি ৭ অক্টোবরের কর্মসূচির অনুমতি চেয়েছিল (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)। এর বাইরেও কিছু ঘটনা অসঙ্গতিপূর্ণ। শনিবার দিল্লিতে মোতায়েন করা হয় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য, যার সংখ্যা প্রথম আলো ও আমার দেশে ভিন্ন। যন্তর মন্তর ও আশপাশে বহুস্তরের ব্যারিকেড বসে, প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান সীমিত করা হয়, বহু ট্রেন বাতিল হয় এবং জনপথ–কর্তব্যপথের মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় (ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড ল)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতরেই আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, সহযোগিতার জন্য নেওয়া হচ্ছে। আটক হন যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ, নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। মমতা ও কেজরিওয়ালকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দিনের শেষে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী দিল্লিতে প্রায় ৬ হাজার মানুষ আটক হন, তাঁদের রাখা হয় আগে থেকে আটককেন্দ্র হিসেবে সাজানো ১০টি স্টেডিয়ামে। রয়টার্সের এক সাংবাদিক সাময়িকভাবে আটক হন। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার বোর্ড চেয়ার আকার প্যাটেল এসব বিধিনিষেধকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ ও ‘লকডাউনসদৃশ’ বলেছেন, আর মত প্রকাশ করেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ভয় বা নির্বিচার আটক ছাড়াই জবাবদিহি দাবির সুযোগ থাকতে হবে (অ্যামনেস্টি)। বিজেপির অবস্থান, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। সংগৃহীত প্রতিবেদনে সহিংসতা বা প্রাণহানির কোনো খবর নেই, তবে ঘটনা এখনো চলমান। এই বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তও নেই। ফলে ‘লকডাউন’ আসলে প্রতিরোধমূলক ছিল না অতিরিক্ত, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি আদালত বা স্বাধীন সংস্থার মূল্যায়নের অপেক্ষায়।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পাতলা। ভোটার তালিকার প্রশ্নে কোনো বন্ধুপ্রতীম দেশ বা আন্তর্জাতিক জোটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সংগৃহীত সূত্রে মেলেনি। বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার কোনো মূল্যায়নও পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে স্পষ্ট আন্তর্জাতিক বক্তব্য অ্যামনেস্টির, তাও ভোটার তালিকার সত্যতা নিয়ে নয়, বিক্ষোভ দমনের পদ্ধতি নিয়ে। তাই বাইরের মানদণ্ডে কমিশনের কার্যকারিতা বিচারের কোনো তথ্য এই অনুসন্ধানে নেই।
সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমীকরণ গড়ে উঠছে তিনটি প্রক্রিয়ায়, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়ানো। প্রথমটি সুপ্রিম কোর্টে ২০২৩ সালের নিয়োগ আইনের মামলা। জানুয়ারি ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রায় আসেনি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ২০২৬ সালের ২০ মার্চ নিজেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান, কারণ আইনটি প্রধান বিচারপতিকেই কমিটি থেকে বাদ দিয়েছে (লাইভ ল)। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে ৫ দিনের শুনানি শেষে ৩০ জুলাই রায় সংরক্ষিত হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর দুই বিচারপতির মতভেদের পর বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর খবর এসেছে (ওপেন ম্যাগাজিন)। বিচারপতি দত্তের পর্যবেক্ষণে অনুপ বারানওয়াল রায়ের কমিটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা, যা নতুন আইনের সঙ্গে লুপ্ত হয়েছে, কিন্তু কমিশনের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ করার নীতি বহাল। বিচারপতি শর্মা বলেছেন, আইনটির বৈধতা নিয়ে কোনো কর্তৃত্বপূর্ণ রায় নেই (প্রাইম লিগ্যাল)। এই আদেশ আইনের বৈধতা নিয়ে কিছুই ঠিক করেনি, আর আইন আপাতত বহাল। দ্বিতীয়টি এসআইআরের তৃতীয় ধাপ, যা এখনো চলমান। তৃতীয়টি সিইসির মেয়াদ। আইন অনুযায়ী ছয় বছর বা ৬৫ বছর বয়স, যেটি আগে, আর তাঁর জন্মতারিখ ২৭ জানুয়ারি ১৯৬৪ (উইকিপিডিয়া)। এই হিসাবে তিনি ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যাবেন। বাকি ক্ষেত্রগুলোর মতোই এখানে বিরোধ নির্বাচনী ফলের আগে বিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রশ্ন।
সংকট নিরসনের প্রস্তাবগুলোয় কিছু মিল ও কিছু ফারাক আছে। ইন্ডিয়া জোট জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ২০২৩ সালের আইন বাতিল চায়। প্রস্তাবে এসআইআর স্থগিত রাখার এবং বাদ পড়া ভোটারদের ফিরিয়ে আনার দাবিও আছে। আবেদনকারী এডিআর ও জয়া ঠাকুর প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিটিতে ফেরানোর পক্ষে। কুরাইশি, নাজিব জংসহ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মকর্তা নিয়োগ-ব্যবস্থা বদলের কথা বলছেন। কমিশন ও বিজেপি তা মানছে না। কমিশনের অবস্থান, এসআইআর শুদ্ধ তালিকার জন্য জরুরি এবং সুপ্রিম কোর্ট তা বৈধ বলেছে। বিজেপির বক্তব্য, বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দুই পক্ষই বলছে তারা শুদ্ধ ভোটার তালিকা চায়। বিরোধ আসলে সেই তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, কে প্রমাণের বোঝা বইবে এবং কে সেই প্রক্রিয়ার তদারকি করবে, তা নিয়ে।
প্রমাণ যা বলে, তা এই। অভিযোগগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি, আবার কমিশনের সব উত্তরও স্বাধীন যাচাইয়ে টেকেনি। মহাদেবপুরার এক লাখ ভুয়া ভোটারের দাবি কংগ্রেসের নিজস্ব বিশ্লেষণ, আর কমিশন সেই দাবি তদন্ত না করে শপথের শর্ত চাপিয়েছে। দুই কমিশনারের ১৪টি আপত্তির অস্তিত্ব কমিশন অস্বীকার করেনি, কিন্তু সেগুলোর আইনি তাৎপর্য অমীমাংসিত। এসআইআরের বৈধতা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে, আবার নিয়োগ আইনের বৈধতা সেই আদালতেই ঝুলে আছে। সিইসিকে সরানোর সাংবিধানিক পথ বিরোধীদের হাতে নেই, আর রাজপথের চাপ মোকাবেলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিজেই আরেকটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কারও পক্ষে-বিপক্ষে চূড়ান্ত রায়ের চেয়ে মানদণ্ড ঠিক করা জরুরি। কমিশনারদের ১৪টি আপত্তির নোট ও কার্যবিবরণী প্রকাশ হওয়া দরকার, অন্তত আইনি সুরক্ষার সীমা মেনে প্রকাশযোগ্য অংশ। বাদ পড়া ১৩ দশমিক ৩ কোটি নামের একটি স্বাধীন নমুনা-নিরীক্ষা হওয়া দরকার, যাতে ‘অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত’ শ্রেণির কত শতাংশ ভুলে বাদ পড়েছে, তা জানা যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নাগরিকত্বের প্রশ্নে বাদ পড়াদের চার সপ্তাহের সময়সীমার বাস্তবায়ন প্রকাশ্যে মাপা দরকার। আর কর্ণাটক সিআইডির তদন্তে কোন তথ্য দেওয়া হলো, কোন তথ্য আটকানো হলো, তার হিসাব জনসমক্ষে আসা দরকার। বৃহত্তর বেঞ্চের শুনানি বা বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচির তারিখ এখনো অজানা, কিন্তু এসআইআরের তৃতীয় ধাপ চলছে, তালিকা বদলাচ্ছে আর পরের নির্বাচনী চক্রও এগিয়ে আসছে।




