রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট নিয়ে নৃবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৩
৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সিরাজী ভবনের সামনে ব্যাডমিন্টন কোর্ট নিয়ে নৃবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর নয়। তাঁরা চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। প্রশাসন ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই পক্ষই অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।#RajshahiUniversity #CampusNews #Rajshahi #MeehaNews

ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নৃবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
আহতরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও মো. শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রশাসন ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক পক্ষ বলছে তারা কয়েক দিন আগে বাঁশ পুঁতে কোর্টের জায়গা নির্ধারণ করেছিল। অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দুই পক্ষের দুই রকম দাবি এসেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তানভীর হোসাইনের অভিযোগ, অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁকে কোর্টের বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে, নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। তাঁর দাবি, কোর্টটি তাঁরাই আগে তৈরি করেছিলেন এবং অন্য পক্ষের দাবির পক্ষে কোনো চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা বাঁশ পুঁতে জায়গা ঠিক করেছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের জন্য সেখানে আরও বাঁশ পোঁতা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সেই বিভাগের বাঁশের সঙ্গে তাঁদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই জায়গায় কোর্ট তৈরি করতে চান। তাঁর অভিযোগ, নৃবিজ্ঞানের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে ১৫-২০ জন তাঁদের মারধর করেন। প্রক্টর এসে মীমাংসা করার পর তাঁরা ফিরে যেতে চাইলে আবারও হামলা হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, কে আগে খুঁটি পুঁতেছিল, তা নিয়ে বিরোধ হয়েছে। প্রথম দফায় তাঁরা মীমাংসা করেন। দ্বিতীয় দফায় আবার হাতাহাতি হয়। তৃতীয় দফায় দুই বিভাগের শিক্ষকদের ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলা হয়। এ সময় মমতাজউদ্দিন ভবনের সামনে গিয়ে তাঁরা আবার সংঘর্ষে জড়ান।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম জানান, একজনের নাকে আঘাত, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা। হাতে ব্যথা পাওয়া শিক্ষার্থীর এক্স-রেতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনজনই চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন, কারও অবস্থা গুরুতর নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। উভয় পক্ষেরই ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





