তৌফিকের মৃত্যুর পর ‘আওয়ামী দুর্বৃত্ত’ ঠেকাতে জামায়াত-এনসিপিকে রাজপথে নামার আহ্বান রাশেদ খাঁনের
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় হামলায় আহত তৌফিক শেখ (২১) ৩ নভেম্বর সকালে হাসপাতালে মারা যান। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ‘শ্রমিক পরিচয়ধারী আওয়ামী দুর্বৃত্তরা’ তাঁকে হত্যা করেছে। তিনি জামায়াত ও এনসিপিকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। হামলাকারীদের পরিচয় ও মামলার তথ্য কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।#Gazipur #LabourMovement #RashedKhan #Bangladesh #MeehaNews

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় হামলায় আহত তরুণ তৌফিক শেখের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, শ্রমিকবেশে আওয়ামী লীগের ‘দুর্বৃত্তরা’ সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে।
রাশেদ খাঁনের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) আনুমানিক দুপুর আড়াইটায় গাজীপুর সদর উপজেলার পূর্ব মির্জাপুরে নোমান টেরি টাওয়েল লিমিটেডের সামনে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এ সময় ‘শ্রমিক পরিচয়ধারী’ কিছু লোক সহিংস হয়ে কারখানার গেট ভাঙার চেষ্টা করে। তৌফিক এর ভিডিও করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি শিন শিন জাপান হাসপাতালে মারা যান। রাশেদ খাঁন লেখেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে আন্দোলন আর শ্রমিকদের হাতে নেই। তাঁর ভাষ্য, ‘আরেকটি ১/১১ ঘটানো’ই আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য।
তৌফিক শেখ (২১) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তাঁর চাচা বাচ্চু মিয়ার বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাবার মৃত্যুর পর তিনি গাজীপুরে লায়লা গার্মেন্টসে কাজ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে বাংলাদেশ টাইমস লিখেছে, আন্দোলনের মধ্যে হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামিম কায়সার লিংকন তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে সমবেদনা জানান। তিনি দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও বলেন।
রাশেদ খাঁন রোববার (১ নভেম্বর) আরেকটি পোস্টে দাবি করেছিলেন, গাজীপুরের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা এবং আন্দোলন উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি। একই দিন প্রথম আলো জানায়, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে কালিয়াকৈরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এনসিপি এ অভিযোগ মানেনি। দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন যৌক্তিক। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র বলে পার পাওয়া যাবে না। আন্দোলনে ‘ফ্যাসিস্ট’ ঢুকে থাকলে তা সরকারের গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং এর দায় সরকারের। এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ জাতীয় শ্রমিক শক্তির সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শ্রমিকদের ওপর দায় না চাপিয়ে সহিংসতায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন। জামায়াতের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের জোট ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। তারা সাধারণ শ্রমিকদের নাশকতায় জড়িত নয় বলে দাবি করে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের কথা বলেছে। সরকারের গঠিত নতুন মজুরি বোর্ডকে বিজয় আখ্যা দিয়ে বুধবার থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।





