মোহনগঞ্জে বিচ্ছেদের ২৫ দিনের মধ্যে সাবেক স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার দুজনের মরদেহ
২ নভেম্বর সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে মুক্তা আক্তার (১৯) মারা যান। ৩ নভেম্বর সকালে মোহনগঞ্জের আটবাড়ি গ্রামে তাঁর সাবেক স্বামী সাকিব মিয়ার (২৩) মরদেহ পাওয়া যায়। দুজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা। ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মোহনগঞ্জ থানা অপমৃত্যুর মামলা করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।#Netrokona #Mohanganj #BangladeshNews #MeehaNews

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিচ্ছেদের ২০-২৫ দিনের মাথায় সাবেক স্বামী-স্ত্রী দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের বারান্দা থেকে মো. সাকিব মিয়ার (২৩) মরদেহ পাওয়া যায়। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে তাঁর সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার (১৯) মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিব সুনো মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। তাঁর আগের স্ত্রী ও আড়াই বছরের এক সন্তান আছে। স্ত্রী এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রায় তিন মাস আগে মামাতো বোন মুক্তাকে বিয়ে করেন সাকিব। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক চাপে ২০-২৫ দিন আগে তিনি মুক্তাকে তালাক দেন। এরপর মুক্তা শ্রীপুরে তাঁর বাবার কাছে চলে যান।
মুক্তার মৃত্যুর খবর স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়নি বলে মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান। তাঁর ভাষ্য, মুক্তার বাবা মেয়ের মরদেহ মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, সাকিব সোমবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন।
গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান বলেন, সাকিব মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবিকা চালাতেন। বিয়ে ও বিচ্ছেদের সঙ্গে এই মৃত্যুর সম্পর্ক আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল বলেন, দুজনের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা নিজেরাই প্রাণ হারিয়েছেন। বিচ্ছেদজনিত হতাশা সাকিবের ক্ষেত্রে কারণ হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওসি জানান, দুজনের মরদেহ একই সময়ে থানায় আনা হয়। এরপর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুক্তার মৃত্যুর বিষয়ে শ্রীপুর থানাকে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।





