সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ, ঢামেকে বীথি আক্তারের মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ মে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথি আক্তার (২৩) মারা যান। পরিবারের ভাষ্য, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে গজ বের করা হয়। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক দাবি করেছেন, গজ রাখার কারণে নয়, অস্ত্রোপচারজনিত…

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগের প্রায় পাঁচ মাস পর মারা গেছেন বীথি আক্তার (২৩)। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বীথি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। ফরিদপুরের একটি নার্সিং কলেজে তাঁর পড়াশোনা ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তামান্না আক্তারের তত্ত্বাবধানে বীথির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। এতে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এরপর থেকে তীব্র পেটব্যথাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করা হয়েছিল।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস পর দুটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পেটে গজের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ১৫ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার হয়। স্বজনেরা বলেন, ওই অস্ত্রোপচারে গজ বের করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ততদিনে সংক্রমণে তাঁর নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে বাইপাস সার্জারিও করতে হয়।
স্বজনদের তথ্যমতে, সিজারের আগে বীথির ওজন ছিল প্রায় ৬১ কেজি, অসুস্থতায় চার মাসের মধ্যে তা ৩৯ কেজিতে নামে। অসুস্থতার কারণে নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ পাননি তিনি। ফরিদপুর মেডিকেলের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অবনতি হলে ৪ অক্টোবর তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু জানান, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২ অক্টোবর আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেছিলেন, পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের কারণে নয়, অস্ত্রোপচারজনিত সংক্রমণ থেকেই জটিলতা হয়েছে। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে গজ বের করার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, তখন শুধু বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। বীথির স্বামী দুটি বেসরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন দেখিয়ে এই দাবি নাকচ করেছেন।
বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলামসহ স্বজনেরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। আজকের পত্রিকা জানায়, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমার জন্য সাত কার্যদিবস সময় পেয়েছিল। সময় শেষ হওয়ায় কমিটি আরও সময় চেয়েছে।




