পঞ্চগড় কারাগারের সাবেক জেলার বরখাস্ত, মাদক অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে পঞ্চগড় কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফাত্তাহ তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করে ১ কোটি…

ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে জালিয়াতি ও বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ তোলার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপন দুটিতে সই করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার ছিলেন। ওই সময়ে খোরাকি রেশন খাতে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কারা অধিদপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সরেজমিন তদন্তে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামের তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদনের প্রমাণ মেলে। এতে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই অর্থ নয়টি চালানে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে ফাত্তাহ নিজে জমা দিয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও চারটি চাহিদাপত্রে খোরাকি রেশনের জন্য বাড়তি অর্থ নেওয়ার চেষ্টা ও আর্থিক নথি প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়। কারা অধিদপ্তরের অনুরোধে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের পর তদন্তে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতা প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সম্মতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে কালবেলা জানিয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন ষষ্ঠ গ্রেডে রাসায়নিক পরীক্ষক পদে যোগ দেন। বিভিন্ন জেলা আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জাল করে সাক্ষ্য না দিয়েই ভুয়া বিলে সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে ভ্রমণকারী কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যয়নের জায়গায় তিন ধরনের স্বাক্ষর থাকলেও প্রতিটিতে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই গ্রেডে থাকাকালে বিমানযাত্রার প্রাধিকার না থাকা সত্ত্বেও ২৩ বছরে শতাধিকবার ভ্রমণ বিল দাখিল করে অর্থ তোলার অভিযোগ আছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে বিধিবহির্ভূতভাবে কোষাগার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা তোলার বিষয়টি উঠে আসে। ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির পরামর্শে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত দুজনের কারও বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে নেই।




