ইনস্টাগ্রামের ফ্রেমে যখন তৃণা সাহা হাজির হন, তখন তা নিছক একটা ছবি থাকে না — হয়ে ওঠে একধরনের বিবৃতি। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। কালো বিশাল সোফায় হেলান দিয়ে বসা তাঁর সাম্প্রতিক লুকটি যেন নিজেই একটি বাক্য লিখে ফেলেছে, আর সেই বাক্যের নাম তিনি নিজেই দিয়েছেন — “জিরো অ্যাপলজিস”।

পরনে পেল পিংক শেডের একটি ব্রালেট, যাতে বসানো বড় বড় সিকুইনের ঝিলিমিলি আলো যেন প্রতিটি নড়াচড়ায় নতুন করে ভেঙে পড়ে। প্রথাগত স্ট্রিংয়ের জায়গায় এখানে ব্যবহৃত হয়েছে রুপালি চেইন, যা সিকুইনের ঝলমলে লহরের মধ্যেও নিজের ধাতব উপস্থিতি জানান দিতে ভোলে না। নিচে মেটালিক এমবেলিশমেন্টে সাজানো মিনি স্কার্ট, যার দৈর্ঘ্য নিয়ে দ্বিধা করারই কথা—অথচ তৃণার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে তার ছিটেফোঁটা আঁচও পড়েনি। এই নির্ভীক ভারসাম্যই আসলে পুরো লুকের প্রাণভোমরা।

গয়নার বাহুল্য নেই, দরকারও পড়েনি — নির্ভার বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই বাজিমাত!
সব মিলিয়ে যখন যোগ হয় ঘন কালো ফার কোট, তখন সাজে যুক্ত হয় এক ধরনের রাজকীয় বৈপরীত্য—উষ্ণতার আভিজাত্য বনাম ধাতব-চকচকে সাহস, একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ম্যাক্সিমালিস্ট নাকি মিনিমালিস্ট—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই, আর সেখানেই লুকটির আসল কারিকুরি।

মেকওভারে ধরা পড়ে সফট গ্ল্যামের আভা। ঠোঁটে গ্লসি ন্যুড শেড, তাতে কপার আর ব্রিক রেডের সূক্ষ্ম মিশেল। চোখে টানা মোটা লাইনার, ঘন কাজল-মাসকারার সঙ্গে ফলস আইল্যাশে বসানো ছোট ছোট স্টোন যেন প্রতিটি পলকে ছড়িয়ে দেয় আলাদা এক দ্যুতি। গালে কপার-পিচের ক্রিমি ব্লাশ যোগ করেছে উষ্ণ এক আভা।
চুলে কোনো বাড়তি কারিকুরি নেই—বারগ্যান্ডি শেডের চুল খোলা রাখা হয়েছে নরম ওয়েভে, আর গয়নার প্রশ্নে সচেতনভাবেই সংযম দেখিয়েছেন তিনি। ফার কোটের বাহুল্য একদিকে, গয়নার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি অন্যদিকে—এই দ্বৈততাই লুকটিকে করে তুলেছে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন এক ফ্যাশন-বিবৃতি।














মন্তব্য করুন