নিজের জগতেই যেন এক রাজকন্যা
গোলাপি রঙের এক স্বপ্নের জগৎ তৈরি করে সেখানেই যেন নিজেকে হারিয়ে ফেললেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। সদ্য প্রকাশিত এক ফটোশুটে ধরা দিলেন একেবারে ভিন্ন রূপে—রুপকথার পাতা থেকে উঠে আসা কোনো রাজকন্যার মতো, যাঁর চারপাশে ভাসছে গোলাপি মেঘের নরম আভা। নিজের ক্যাপশনেই তিনি লিখেছেন, “Just a princess in her own world”—আর ছবিগুলো দেখলে মনে হয়, কথাটা নিছক ক্যাপশন নয়, একেবারে যথার্থ বর্ণনা।










গোলাপি এক স্বপ্নের ভেতর
ছবিগুলো একসঙ্গে দেখলে মনে হয়, এ যেন কোনো একটামাত্র মুহূর্তের ছবি নয়—বরং টুকরো টুকরো দৃশ্যে বলা একটা গল্প, যার প্রতিটি ফ্রেমেই মিম নিজেকে মেলে ধরেছেন নতুন এক ভঙ্গিতে। গাউনের ওপর ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পুঁতি আর চুমকি যেন রাতের আকাশ থেকে খসে পড়া তারার কণা জমা হয়েছে কাপড়ের বুকে জুড়ে, আর গলায় ঝোলা রুপালি নেকলেসের পেন্ডেন্ট দুটি ক্যামেরার আলোয় ঠিকরে পড়ছে ছোট্ট দুই তারার মতো। পেছনে গোলাপি সাটিনের কাপড় এমনভাবে ছড়ানো, যেন কেউ সদ্য মেলে দিয়েছে সন্ধ্যার আকাশের এক টুকরো।
গল্পটা এগোয় নরম এক ছন্দে। কোথাও মিমকে দেখা যায় পাশ ফিরে, চোখ নামিয়ে এক মৃদু হাসিতে, হাতে জড়ানো সাটিনের রাশ যেন নদীর স্রোতের মতো বয়ে চলেছে তাঁর শরীর ঘিরে—ঠিক যেন কোনো চিত্রকর তুলির এক টানে ধরে রেখেছেন নীরবতার সৌন্দর্য। আবার পরের মুহূর্তেই তিনি দাঁড়িয়ে যান দুই হাতে গোলাপি টিউলের পাখনার মতো কাপড় মেলে ধরে, অনেকটা সদ্য ডানা মেলা কোনো প্রজাপতির মতো—আর সেই ওড়ার আনন্দ যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্রেমজুড়ে।
তবে এই রাজকীয় রূপের মধ্যেও প্রাণচঞ্চলতার অভাব নেই এতটুকু। কোনো এক ফ্রেমে খুনসুটির মেজাজে দুই হাত মাথার পাশে তুলে প্রাণখোলা হাসিতে ধরা দেন মিম, হাতের পুঁতির নকশার গ্লাভস আর কব্জির ঝলমলে গহনা যেন জানান দেয়—রাজকন্যার সাজে থাকলেও প্রাণে তিনি নিতান্তই এক প্রাণবন্ত তরুণী। আবার কোথাও চোখ বুজে এক প্রশান্ত হাসিতে যেন কোনো সুরের মূর্ছনায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন তিনি, আঙুলে ঝিলিক দেওয়া আংটি আর নেট গ্লাভসের ওপর বিন্দু বিন্দু পুঁতি জমে আছে শিশিরের ফোঁটার মতো। গল্পের শেষ দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে দূরের দিকে তাকানো এক রাজসিক ভঙ্গি—ঠোঁটে হালকা গোলাপি আভা, চোখে গভীর কাজল রেখা—যা পুরো লুকটাকে দেয় এক মায়াবী পরিপূর্ণতা।
দশটি ছবির এই অ্যালবামজুড়ে তাই ফুটে ওঠে একটাই বার্তা—রাজকন্যা হতে গেলে মুকুট লাগে না, লাগে শুধু নিজের জগতে নিজের মতো করে জ্বলে ওঠার সাহস।
নেপথ্যের কারিগররা
এই স্বপ্নিল রূপ বাস্তবে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করেছে একটি পুরো দল। রূপসজ্জায় ছিলেন সিগনেচার লুক বাই সামিয়া, ক্যামেরার পেছনে ছিলেন নাসির হোসেন ফটোগ্রাফি, আর মিমের পরনের ঝলমলে গাউনটি এসেছে মেজো আমালি থেকে। পোস্ট হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি লাইক পড়েছে ছবিগুলোয়, মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা মিমের এই রূপের প্রশংসায় হয়েছেন উচ্ছ্বসিত।
তথ্যসূত্র: বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম পোস্ট অবলম্বনে।













মন্তব্য করুন