সময়মতো টিকা না হলে যা ঘটতে পারে, নিজের ভিডিওতে দেখালেন মিম
রুপালি পর্দার পরিচিত মুখ থেকে এবার শিশুস্বাস্থ্যের প্রশ্নে সরাসরি অভিভাবকদের উদ্দেশে কথা বললেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। ইউনিসেফ বাংলাদেশের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে প্রকাশিত এক নতুন ভিডিও বার্তায় তিনি তুলে ধরেছেন একটি সাদামাটা অথচ জীবনরক্ষাকারী সত্য—টিকা তখনই সুরক্ষা দেয়, যখন তা সঠিক সময়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে যা দেখা গেল
ইউনিসেফের লোগোসংবলিত কালো টি-শার্ট পরে সরাসরি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে দেখা যায় মিমকে। ভিডিওর শুরুতেই তিনি দর্শকদের একটি ছোট্ট প্রশ্ন ছুড়ে দেন—পোলারয়েড স্টাইলে দেখানো একটি হাসিমুখ শিশুর ছবির পাশে লেখা থাকে, “আন্দাজ করুন তো, এই শিশুরা কত মাস বয়সে তাদের প্রথম টিকা পেয়েছিল?” এরপর দৃশ্যপটে আসে বাস্তব টিকাদানের ফুটেজ—একজন মা তাঁর সন্তানকে কোলে নিয়ে টিকা দেওয়ার সময়ের ছবি, হাতে টিকাদান কার্ড।
মিম ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি টিকা শিশুকে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী অথচ সহজে প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি আসে এর পরই—সিরিঞ্জ ও ভ্যাকসিনের শিশির ধরা একটি ক্লোজ-আপ দৃশ্যে ভেসে ওঠে সতর্কবার্তা, এই সুরক্ষা তখনই কার্যকর হয় যখন টিকা সঠিক সময়ে দেওয়া হয়। দেরিতে দিলে তা আর কার্যকর নাও থাকতে পারে, এমনকি শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এই বার্তা দিতে ভিডিওতে দেখানো হয় এক মাকে তাঁর শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি আবেগঘন দৃশ্য।
ভিডিওটি শেষ হয় মিমের কণ্ঠে সরাসরি ও দৃঢ় একটি আহ্বানে—”দেরি করবেন না। আন্দাজে চলবেন না” (Don’t delay. Don’t guess.)। শেষ দৃশ্যে ফুটে ওঠে ভিডিওর মূল বার্তা, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়—”টিকা কার্যকর, যদি সঠিক সময়ে দেওয়া হয়” (Vaccines work, every time, if given at the right time)।
মিম কেন এই ভূমিকায়
২০২২ সালের ১৯ মে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীকে বাংলাদেশে ইউনিসেফের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখনকার ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েটের হাত থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া মিম এর মধ্য দিয়ে আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও জুয়েল আইচের মতো ইউনিসেফ দূতদের কাতারে যুক্ত হন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অবশ্য করোনাভাইরাস মহামারিকালে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় মিম বলেছিলেন, দেশজুড়ে শিশুদের শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিসেফের কাজে তিনি অনুপ্রাণিত। এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকতে হলেও তাঁর বাবা-মা সবসময় নিশ্চিত করেছেন যেন তাঁর সব টিকা সময়মতোই দেওয়া হয়—আর সেটিই তাঁকে সুস্থ রাখতে সহায়ক হয়েছিল।
কেন এই বার্তা এখন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, শিশুদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি টিকার কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নির্দিষ্ট বয়সের আগে বা অনেক পরে টিকা দিলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিতভাবে সাড়া নাও দিতে পারে। মিমের মতো একজন পরিচিত মুখ এই বার্তা বহন করায় তা সাধারণ অভিভাবকদের কাছে সহজে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















মন্তব্য করুন