বিনোদন প্রতিবেদক ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিন রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকা ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি জানিয়েছেন, জীবনের বাকি সময়টা তিনি কাটাতে চান শান্তি ও ধর্মীয় চর্চার মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই তারকা বলেন, “সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই।” তাঁর ভাষ্যে, যত পাপ করেছেন তা মুছে একটি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চলচ্চিত্র থেকে ক্রমশ দূরত্ব
পপির এই বক্তব্য নতুন নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরে অভিনয় থেকে তাঁর ক্রমশ সরে আসারই ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরতে চাইলেও তা হবে কেবল মানসম্পন্ন কোনো কাজের মাধ্যমে—নিয়মিত সিনেমা, নাটক বা বিজ্ঞাপনে আর আগ্রহ নেই তাঁর। এমনকি নিজের জীবনভিত্তিক কোনো গল্প উপযুক্তভাবে পর্দায় তুলে ধরা হলেই কেবল তাতে অভিনয় করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৬ সালে এসেও তাঁর চলচ্চিত্রে ফেরার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত আসেনি।
ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
খুলনার মেয়ে পপি ১৯৯৫ সালে ‘লাক্স আনন্দচিত্রা ফটো সুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিনোদন অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যবসাসফল ও সমালোচক-প্রশংসিত—দুই ধরনের সিনেমাতেই কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ‘কারাগার’ সিনেমার জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমার জন্যও এই সম্মাননা পান তিনি—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন পপি। এ ছাড়া ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’, ‘দরদী সন্তান’, ‘লাল বাদশা’সহ একাধিক আলোচিত সিনেমায় দেখা গেছে তাঁকে।
পারিবারিক জীবন
ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে হঠাৎই আড়ালে চলে যান এই অভিনেত্রী। ব্যবসায়ী আদনানকে বিয়ের পর বর্তমানে স্বামী ও একমাত্র ছেলে আয়াতকে নিয়ে পারিবারিক জীবনেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। আগের একটি সাক্ষাৎকারে পপি জানিয়েছিলেন, সংসার টেকাতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন এবং স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ীই নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন।
















মন্তব্য করুন