পায়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৫০ পেলেন কাউনিয়ার কলি রানী
রংপুরের কাউনিয়ার কলি রানী (১৮) জন্ম থেকে দুই হাতের আঙুল না থাকায় ডান পায়ে লিখে ২০২৬ সালের এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছেন। পরীক্ষার হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। পিইসি ও এসএসসিতেও তিনি পায়ে লিখে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারানো কলি উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছেন।#EducationNews #HSC2026 #Rangpur #Kaunia #MeehaNews

জন্ম থেকে দুই হাতের আঙুল নেই। তবু ডান পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম গুঁজে লিখে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কলি রানী (১৮)।
কলির বাড়ি উপজেলার গদাই গ্রামে। তিনি কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী। গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কাউনিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছেন তিনি। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে পায়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কলি।
এ বছর জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষার সময় কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তাঁর জন্য আলাদা ছোট বেঞ্চের ব্যবস্থা ছিল। কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী কলিকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।
কলির মা রূপালী রানী জানান, মেয়েকে বড় করতে নানা প্রতিকূলতা পেরোতে হয়েছে। কলি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কলি সবার ছোট। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতে সহপাঠীদের উপহাসের মুখে পড়তে হলেও শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি তা কাটিয়ে ওঠেন।
পড়াশোনার বাইরেও কলির দক্ষতা আছে। ডান পা দিয়ে তিনি মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার চালাতে পারেন। গানেও পারদর্শী কলি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেয়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি। তবে অর্থাভাব ও সামাজিক নানা বাধা রয়েছে। উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে কলি ও তাঁর পরিবার বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
কাউনিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম মুকুল বলেন, কলির এই অর্জন দেশের সব স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা। কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, কলির সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত ও গর্বিত।





