র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী গঠনের যে প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, র্যাবের স্থাপনা, জনবল ও লজিস্টিকস অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম বদলে নতুন বাহিনী গঠনের যে প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হয়েছে, তা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে না।
সংসদে চলমান আলোচনার সূত্র ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই বাহিনীর একই সদস্যরা কেবল নতুন নামে একই জায়গায় হস্তান্তরিত হচ্ছেন, যা প্রমাণ করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অতীত নিয়ে কোনো বোধোদয় হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতি এটা চায় না। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ার দাবি করে তিনি জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিলে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন ও বাধ্যবাধকতা যুক্ত হলেও মৌলিক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি গত সপ্তাহে সংসদে উত্থাপিত হয়। সেদিন আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম যৌথভাবে বিলটি পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় কমিটিকে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানান, যা পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়। সে সময় ডা. শফিকুর রহমান র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল অঙ্গীকার করেছিল সরকার গঠন করতে পারলে র্যাব রাখা হবে না, আর এই উদ্যোগকে তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছিলেন। তবে নতুন বাহিনী গঠনের আগে সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে আরও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য তাঁর সুর আরও কঠোর শোনা গেছে। র্যাবের অতীত ভূমিকার কারণে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু নাম পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; পুরো বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করে বিলটি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, বাহিনীর আচরণে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন এখনো ঘটেনি। নতুন আইন ও প্রস্তাবনা নিয়ে সুশীল সমাজ, দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী র্যাব নামে কোনো সংস্থা আর থাকবে না, তবে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি নিয়ে সংসদে এখনো বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।














মন্তব্য করুন