স্বর্গের লোভ দেখিয়ে অনাহারে শিশুদের হত্যা, ধর্মগুরুর ২০০ বছরের সাজা
মোম্বাসার হাইকোর্ট শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে, যাঁদের ১৯০ জনই শিশু। ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে অনাহারে, বাকি আটজনকে শ্বাসরোধসহ সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। ১০০ বছর করে দুই ভাগে সাজা হয়েছে। ম্যাকেঞ্জির ২৮ সহযোগীকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল, আদালত তা দেননি। শাকাহোলায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ ৪০০-র বেশি। ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে আরও ৫২ জনের মৃত্যুর অভিযোগে পৃথক মামলা আছে।#Kenya #Shakahola #PaulMackenzie #CultMassacre #MeehaNews

অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে কেনিয়ার স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জন শিশু। গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মোম্বাসার হাইকোর্টের বিচারক ডায়ানা কাভেদজা এ রায় দেন। একই মামলায় ম্যাকেঞ্জির ২৮ সহযোগীকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভূমিকা ও দায়ের মাত্রা অনুযায়ী তাঁদের সাজার মেয়াদ নির্ধারণ হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর আদালত ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর সহযোগীদের ১৯১টি হত্যার অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনে এসব মৃত্যু ঘটে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, চরম উপবাস করলে তাঁরা সরাসরি যিশুর সাক্ষাৎ পাবেন। তাঁর নির্দেশে নারী, পুরুষ ও শিশুরা খাবার ও পানি ত্যাগ করেন। বিচারক জানান, নিহত ১৯১ জনের ১৮৩ জন মারা গেছেন অনাহারে, তাঁদের মধ্যে ১৮২ জন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি আটজন শিশুকে শ্বাসরোধসহ সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, শুধু অনাহারে সবার মৃত্যু হয়নি। কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধ, গলায় চাপ কিংবা মাথায় আঘাতে।
রায়ে বলা হয়, ম্যাকেঞ্জি গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল মিনিস্ট্রিজ ও শাকাহোলা বসতির প্রধান নেতা হিসেবে অপরাধের প্রধান দায় বহন করেন। সাজা ১০০ বছর করে দুই ভাগে: ১৮৩ জনের অনাহারে মৃত্যুর জন্য ১০০ বছর, আটজনকে সরাসরি হত্যার জন্য আরও ১০০ বছর।
প্রসিকিউশন ম্যাকেঞ্জির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। আদালত তা দেননি। কেনিয়ার আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৮৭ সালের পর দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।
২০২৩ সাল থেকে মালিন্দির কাছে শাকাহোলা বনে শত শত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা ‘শাকাহোলা ফরেস্ট ম্যাসাকার’ নামে পরিচিত। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে ২০২৪ সালে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৪২৯। কিছু মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে আরও ৫২ জনের মৃত্যুর অভিযোগে পৃথক মামলা রয়েছে।





