টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় ৩ মরদেহ পড়ে থাকার খবর
শুক্রবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার ওই পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলিতে সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। ওই অভিযানে ৫৬ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক হয়েছে চক্রের ছয় সদস্য। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি পাঁচ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পাহাড়ে এখনো চলছে। স্থানীয়রা পুরো পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।#Teknaf #CoxsBazar #HumanTrafficking #MeehaNews

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেলে নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পূর্ব পাশের পাহাড়ে মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের মরদেহ থাকার খবর তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে হ্নীলার রঙ্গীখালীর ওই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালিকে জিম্মি করে রেখেছে। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ দল বিকেল পাঁচটার দিকে সেখানে পৌঁছালে গোলাগুলি শুরু হয়। পাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন।
তিতাস ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এনটিভি অনলাইনের তথ্যমতে, শুক্রবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা ছিল।
অভিযানে ৫৬ জন জিম্মিকে উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার সকালে তাঁদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার প্রথমে ৫৭ জনকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। পরে পরিচয় যাচাইয়ে উদ্ধারকৃতদের একজন দালাল বলে শনাক্ত হয়। তাই প্রকৃত জিম্মির সংখ্যা ৫৬। ওই অভিযানে পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
পাহাড়ে মরদেহ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা সশস্ত্র অপরাধীদের আস্তানা নির্মূলে পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সশস্ত্র পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যের মৃত্যুতে তিনি শোক প্রকাশ করেন। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।





