মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মহব্বত আলীর দেহাবশেষ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪
২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মাধবপুরে মহব্বত আলী হত্যার প্রায় তিন বছর পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। এক নারীসহ চারজন গ্রেপ্তার। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে রামনগর এলাকার একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে দেহাবশেষ ও আলামত উদ্ধার হয়েছে। একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। গ্রেপ্তার জাহানারা বেগম ও শাহ আলম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।#Habiganj #Madhabpur #MurderCase #DB #MeehaNews

হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রায় তিন বছর আগের এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যে রামনগর এলাকার একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে নিহত মহব্বত আলীর দেহাবশেষ ও হত্যাসংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহানারা বেগম (৩৪), তাঁর স্বামী মো. শাহ আলম (৪২) এবং শাহ আলমের দুই ছোট ভাই ইয়াছিন মিয়া (২৪) ও জয়নার মিয়া (২৪)।
পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মাধবপুরে মহব্বত আলীকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় মামলা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে দায়িত্ব যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রযুক্তির সহায়তা ও একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে এগোন। ডেইলি স্টার ও ঢাকা মেইলের প্রতিবেদনে এটিকে ফোনালাপের রেকর্ড বলা হয়েছে।
২৯ অক্টোবর মাধবপুর পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যা সম্পর্কে তথ্য দেন। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে মনতলা এলাকা থেকে শাহ আলম, ইয়াছিন ও জয়নারকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলমের দেওয়া তথ্যে রামনগরে প্রবাসী রুনা বেগমের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। দৈনিক আদিনের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মহব্বত আলী জাহানারাকে অনৈতিক প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাজি না হওয়ায় তিনি জাহানারার স্বামী ও সন্তানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা, তাঁর স্বামী ও দুই দেবর মিলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং হত্যার পর মরদেহ গুম করেন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে হত্যার পদ্ধতি নিয়ে বলা হয়েছে, মহব্বতকে ওয়ার্ডরোবে লুকিয়ে রেখে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয়। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে এ বিবরণ নেই।
জাহানারা বেগম ও শাহ আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ভূমিকা শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।





