চিরিরবন্দরে মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: হত্যা মামলা, স্বামীসহ আটক ৩
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে রোববার সন্ধ্যায় একটি বাড়ির শোয়ার ঘর থেকে এক নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর বাবা সোমবার তিনজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। স্বামী শাকিল হোসেন ও তাঁর মা-বাবা পুলিশের হেফাজতে আছেন। রোববার রাতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মায়ের হাতে সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যার ধারণা দিয়েছিল। পরে আমার দেশ পুলিশের বরাতে জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। #Dinajpur #Chirirbandar #Bangladesh #CrimeNews #MeehaNews

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ঘরের ভেতর থেকে এক নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নিহত নারীর বাবা খায়রুল ইসলাম চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। এর আগে রোববার রাতে নারীর স্বামী শাকিল হোসেন এবং শাকিলের মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন স্বর্ণা আক্তার (২৪), তাঁর ছেলে সাফায়েত হোসেন (৪) ও মেয়ে রাইফা (১)। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির শোয়ার ঘর থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণার বাবার বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ীতে।
প্রথম আলো, যুগান্তর ও বাংলা ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, রোববার রাতে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী একটি প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছিলেন। ধারণাটি ছিল, পারিবারিক কলহের জেরে মা দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর আমিন শাহ জানান, ঘরের দেয়ালে একটি লেখা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, লেখাটিতে মা নিজেই সন্তানদের হত্যা করছেন বলে উল্লেখ আছে, আর সন্তানদের পুলিশের হাতে না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। লেখাটি কার, পুলিশ তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
তবে স্বর্ণার পরিবার দাবি করছে, তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে। আমার দেশের খবর অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের এই দাবি আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ। শাকিল বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দিনাজপুর টিভিকে ওসি মাহমুদুন নবী বলেন, পুলিশ পৌঁছানোর সময় স্বর্ণার লাশ মাটিতে পড়ে ছিল। কে তা নামিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। রাতেই অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন শাকিল ও স্বর্ণা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইজিবাইকচালক শাকিল কিছুদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, রোববার সকালেও তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। স্বর্ণার মা আঞ্জু আরা বলেন, তিন মাস আগে মেয়ে তাঁকে শাকিলের মাদক সেবনের কথা জানিয়েছিলেন। স্বর্ণার ভাই শাহানুর সজিব বলেন, তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছেন, নাকি স্বামী তাঁকে হত্যা করেছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।





