মিশিগানে সিনেট নির্বাচনের আগের দিন শেষ প্রচার, বেশির ভাগ জরিপে এগিয়ে আল-সাইয়েদ
নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপে আল-সাইয়েদ ৫৩ শতাংশ, রজার্স ৪২ শতাংশ। অন্য জরিপে ব্যবধান কম। সোমবার রজার্স রচেস্টার হিলসে এবং আল-সাইয়েদ ডেট্রয়েটে ইউএডব্লিউ সদস্যদের সমাবেশে প্রচার চালান। রোববার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স প্রকাশ্যে রিপাবলিকান রজার্সকে সমর্থন জানান। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের আক্রমণের মুখে আল-সাইয়েদ জীবনযাত্রার ব্যয়কে মূল ইস্যু করতে চেয়েছেন।#USElection #MichiganSenate #ElSayed #MeehaNews

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার মিশিগানে সিনেট আসনের দুই প্রার্থী পৃথক সমাবেশে শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের এই লড়াইয়ের ফল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে পারে। ভোট মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। সিনেটে এখন রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ পেতে নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।
নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের রোববার প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের ৫৩ শতাংশ আল-সাইয়েদকে এবং ৪২ শতাংশ রজার্সকে সমর্থন করেছেন। ব্যবধান ১১ পয়েন্ট, ভুলের সীমা ৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট। অন্য জরিপে ব্যবধান অনেক কম। সিএনএনের জরিপে ৪৯–৪২, ইমার্সন কলেজের জরিপে ৫১–৪৫। ইনসাইডারঅ্যাডভান্টেজের একটি জরিপে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট, যা ভুলের সীমার মধ্যে।
সোমবার রাতে রচেস্টার হিলসের সমাবেশে সাবেক কংগ্রেস সদস্য রজার্স সমর্থকদের প্রশ্ন করেন, তাঁরা “ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের” পরাজিত করার বার্তা দিতে প্রস্তুত কি না। ডেট্রয়েটে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের (ইউএডব্লিউ) সদস্যদের সমাবেশে আল-সাইয়েদ জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি সামনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ শিবির এসব নিয়ে কথা না বলে তাঁর নাম ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলছে।
আল-সাইয়েদের পরিবার মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে “জিহাদিদের ঢল” নামবে। তিনি আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে “আবদুল রমজান” বলেছেন এবং মধ্যনাম “মোহাম্মদ” নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। রিপাবলিকান শিবিরের পক্ষ থেকে আল-সাইয়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি তা বারবার অস্বীকার করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন যোগের কোনো প্রমাণ নেই। জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প তাঁর নাম জানেন কি না, তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। নির্বাচনের পর ট্রাম্প তাঁকে সিনেটর বলেই ডাকবেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে নিজ দলের ভেতর থেকেও চ্যালেঞ্জ এসেছে। আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স রোববার রজার্সকে সমর্থন জানান। এর কয়েক দিন আগেও তিনি আল-সাইয়েদকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সোমবার এক্সে দেওয়া পোস্টে স্টিভেন্স জানান, আল-সাইয়েদের প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন একটি বিজ্ঞাপনে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর অভিযোগ, আল-সাইয়েদের প্রচারে তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে। দ্য হিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সঙ্গে আল-সাইয়েদের সম্পর্ককেও তিনি “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলেছেন। আল-সাইয়েদ বলেছেন, তিনি আসলে হ্যালি স্টিভেন্সের কথা ভাবেন না। ডেমোক্র্যাট সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা আল-সাইয়েদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ।
রজার্স তাঁর সমাবেশে স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তকে “বিশেষ ধরনের সাহস” বলে অভিহিত করলে সমর্থকেরা “হ্যালি” স্লোগান দেন।





