অপহরণের অভিযোগে নিখোঁজ রিদয়ান ১০ দিন পর বাড়ি ফিরলেন
২৪ অক্টোবর গাজীপুরের সফিপুর থেকে বাসে ওঠার পর নিখোঁজ হন রিদয়ান আনসারী (২৫)। ১০ দিন পর, ৩ নভেম্বর সকালে তিনি মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পরিবারের ভাষ্য, সোমবার রাতে অপহরণকারীরা তাঁকে মির্জাপুর এলাকায় ফেলে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও তাঁকে ছাড়া হয়নি। ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় জিডি ও র্যাব-৩-এ লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল।#ManikganjNews #Kidnapping #Bangladesh #MeehaNews

অপহরণের অভিযোগে ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার শিক্ষার্থী রিদয়ান আনসারী (২৫)। পরিবারের ভাষ্য, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে অপহরণকারীরা তাঁকে মির্জাপুর এলাকায় ফেলে যায়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় রিদয়ান নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে এক পাঠাওচালকের ফোন থেকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে নিয়ে ঢাকার বাসায় যান। দেশ টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্দি থাকায় তিনি অসুস্থ। তাঁর জ্বর ও শরীরে ব্যথা আছে।
রিদয়ান ঘিওরের বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। পরিবারসহ থাকেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে। বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
পরিবার ও রিদয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রভাতী বনশ্রী বাসে ওঠেন। বাসটি উত্তরা আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তাঁর পাশে বসেন। এরপর রিদয়ান চেতনা ও স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। রাত সাড়ে ৯টার পর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী জানান, রিদয়ানকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সারাক্ষণ তাঁর হাত-চোখ বাঁধা থাকত। দিনে একবার খাবার দেওয়া হতো।
স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর ফোনে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তাঁরা দফায় দফায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৪০ হাজার টাকা পাঠালেও রিদয়ানকে ছাড়া হয়নি। দেশ টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরদিন ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং র্যাব -৩-এ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
রিদয়ানকে ফিরে পেতে সোমবার ঘিওরের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তাঁর সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। দেশ টিভি লিখেছে, সেখানে কয়েক হাজার মানুষ ছিলেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অপহরণকারীরা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।





