ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় ব্রেন্টের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ, ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের বেশি
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বর চুক্তির দাম ২.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়ায়, যা এপ্রিলের শেষের পর সর্বোচ্চ। ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ২.১ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ১২ সেন্ট হয়। অক্টোবরে ব্রেন্ট ১৩.৬ ও ডব্লিউটিআই ১৫.২ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার-সংক্রান্ত ঘটনা দামে প্রভাব ফেলেছে। আইআরজিসি মাইনের ঘটনার দাবি করেছে; মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেই দাবি নাকচ করেছে।#OilPrice #Brent #StraitOfHormuz #MeehaNews

ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধের অবনতি হতে পারে, এমন শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন। রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লেনদেন শেষে ডিসেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের একপর্যায়ে তা ১১৮ ডলারে উঠেছিল। ব্রেন্টের ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শুক্রবারই শেষ হয়েছে। এপ্রিলের শেষের পর এটাই সর্বোচ্চ নিষ্পত্তি-মূল্য। সোমবার থেকে ব্রেন্টের দাম হিসেবে জানুয়ারির চুক্তির মূল্য ধরা হবে। দুটি চুক্তির দামের ব্যবধান চার ডলারের মতো (ফাইন্যান্সফিডস)।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে ঠেকেছে। অক্টোবরে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ডব্লিউটিআইয়ের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। দুই বেঞ্চমার্কের এটি টানা চতুর্থ মাসের বৃদ্ধি।
সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার-সংক্রান্ত একাধিক ঘটনা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দিনে সুপারট্যাংকার-সংশ্লিষ্ট চারটি ঘটনা ঘটেছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ পথে চলার সময় দুটি ট্যাংকার মাইনে আঘাত করেছে। অন্য সূত্রে আইআরজিসির দাবির সংখ্যা তিন বা চারটি ট্যাংকারের কথা এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মাইনের দাবি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে এবং বলেছে, মার্কিন বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ জাহাজপথ মাইনমুক্ত করেছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ছোট নৌকা থেকে লাগানো বিস্ফোরকে হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। কে এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথে এসব ঘটনা সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। একই দিন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার চেষ্টায় আবার তেহরানে গেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।





