স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৬৪, চলতি বছর দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা
স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে আঞ্চলিক সরকার অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। সংঘর্ষে জড়িত ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্থা রেনফের ট্রেন (যাত্রী ৩৯৭) ও বেসরকারি সংস্থা ইরিওর ট্রেন (যাত্রী ১৪৭)। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া উচ্চগতির রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে। জানুয়ারির পর চলতি বছরে এটি স্পেনের দ্বিতীয় বড় ট্রেন দুর্ঘটনা, আর ২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচন।#Spain #TrainCrash #Toledo #WorldNews #MeehaNews

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল।
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর তোলেদো প্রদেশের উরদার কাছে মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানান, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন বেসরকারি সংস্থা ইরিওর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে কয়েকটি বগি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়, দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। রেনফের ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ৩৯৭ জন, ইরিওর ট্রেনে একটি শিশুসহ ১৪৭ জন। সংঘর্ষের কারণ এখনো জানা যায়নি।
পরে সিএনএন ও সিএনবিসি জানায়, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৮ হয়েছে। ওই প্রতিবেদনগুলোতে আহতের সংখ্যা ১০০ বা তার কাছাকাছি বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদের সঙ্গে দক্ষিণের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত করেছে রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে শববাহী গাড়িও পৌঁছেছে। আহতদের চিকিৎসায় আশপাশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইরিওর ট্রেনের যাত্রী ফিলিপাইনের পর্যটক ফ্রেডেরিক বাররিলেয়া রয়টার্সকে বলেন, প্রচণ্ড ধাক্কায় তাঁর মনে হয়েছিল তিনি আসন থেকে উড়ে যাচ্ছেন। দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী অক্ষত বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। একই ট্রেনের আরেক যাত্রী এদুয়ার্দা বগিতে যাত্রীদের ছিটকে পড়তে ও মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান। দুর্ঘটনাস্থলে আনা নামের এক নারীকে স্বামীর খোঁজে কাঁদতে দেখা যায়। তাঁর স্বামী রেনফের ট্রেনের আট নম্বর বগিতে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস উদ্ধারকাজ পর্যবেক্ষণে নিকটবর্তী শহর উরদায় গেছেন। সেখানে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার কথা। এক্সে তিনি ঘটনায় গভীর মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম সাধারণ নির্বাচনের কথা রয়েছে। এর মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে একই দুই সংস্থার ট্রেনের দুর্ঘটনায় ৪৫ বা ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন (সূত্রভেদে সংখ্যা ভিন্ন)। এই দুই দুর্ঘটনার আগে ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে স্পেনের রেলপথে মৃত্যুহার ছিল ইউরোপের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন।





