মুরাদনগরে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জনকে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী; এর মধ্যে পাঁচজন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে আসেন না। ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন মন্ত্রী। সংযুক্তিতে থাকা সাতজনকে নিজ কর্মস্থলে ফেরানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পরিকল্পনায় আছে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন, প্রসূতিদের জন্য ২০ ও নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যা। ১ নভেম্বর যোগ দেবেন ৪৪৮ নতুন চিকিৎসক। তাঁদের মধ্য থেকে মুরাদনগরেও চিকিৎসক দেওয়া হবে, তবে সংখ্যা জানাননি মন্ত্রী।#HealthMinister #Muradnagar #Cumilla #MeehaNews

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককেও নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে বলেছেন তিনি।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে মন্ত্রী চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা ও পরিবেশ ঘুরে দেখেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে নিজের পকেট থেকে মোট ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সাতজন অন্য হাসপাতালে সাময়িক দায়িত্বে (সংযুক্তি) আছেন। বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে আসছেন না। সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, পাঁচজন চিকিৎসক অনুপস্থিত। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চিকিৎসকসংকট কাটাতে ১ নভেম্বর যোগ দেবেন নতুন ৪৪৮ জন চিকিৎসক। মন্ত্রী জানান, তাঁদের মধ্য থেকে মুরাদনগরেও চিকিৎসক পদায়ন করা হবে। কতজন আসবেন, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
পরিদর্শনের সময় মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এর আওতায় থাকবে:
১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন
প্রসূতিদের জন্য ২০ শয্যা
নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যা
নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেবা
ব্রেস্টফিডিং সেন্টার
মন্ত্রীর ভাষ্য, আগামী ১৫-১৬ দিনের মধ্যে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও বলেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভালো মনে হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ভেতরের বর্জ্য ফেলার জায়গাটি খুবই নোংরা। হাসপাতালের কর্মীরা জানান, উপজেলায় বর্জ্য ফেলার উপযুক্ত জমি নেই এবং পৌরসভাও সেখানে ফেলতে নিষেধ করেছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের কথা বলেন মন্ত্রী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তথ্যমতে, মন্ত্রী হাসপাতালের বিকল যানবাহন কন্ডেম (অকেজো ঘোষণা) প্রক্রিয়ায় নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্সসংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে। এ জন্য অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।





