ডেঙ্গুতে এ বছর ২৯৫ মৃত্যু: লক্ষণ ও প্রতিরোধে যা জানা জরুরি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৯৫ জনের; সেপ্টেম্বরে ১৪৮ এবং অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনে ৫০ জন। জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা, বমি, রক্তপাত বা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে; শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা বা রক্তচাপ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের…

সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আগে মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার চোখে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৯৫ জন। সেপ্টেম্বরের ৩০ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের, আর অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনেই মারা গেছেন ৫০ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর দৈনিক গড় বাড়ছে। ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ১৫১ জন।
ডেঙ্গুর লক্ষণ
ডেঙ্গু হলে সাধারণত এসব উপসর্গ দেখা যায়:
-
তীব্র জ্বর
-
বমি বা বমি বমি ভাব
-
পেশি ও হাড়ের জোড়ায় ব্যথা
-
খাবারে অরুচি
-
মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত
-
জ্বরের দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ত্বকে লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি, যার সঙ্গে চুলকানিও হতে পারে
জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা বা হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল (antiviral) ওষুধ নেই। তাই এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকানো ও কামড় এড়ানোই প্রধান উপায়:
-
গাছের ট্রে, ছাদের ট্যাংকসহ যেকোনো জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া এবং পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা।
-
এডিস মশা সকাল ও সন্ধ্যায় বেশি কামড়ায়। এই দুই সময় ফুলহাতা জামা ও প্যান্ট পরা এবং অকারণে বাইরে না থাকা।
-
রাতের মতো দিনেও মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, কারণ এ মশা দিনেও সক্রিয়।
-
জানালায় নেট লাগানো।
-
ত্বকে পিকারিডিন (picaridin) যুক্ত অনুমোদিত ক্রিম ব্যবহার করা।
-
নিজের এলাকা, বাসা ও পাবলিক প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখা।
ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও অসচেতনতা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগ দরকার।




