জিডিপি বাড়ছে, নগরায়ণ এগোচ্ছে, প্রযুক্তির নাগাল বিস্তৃত হচ্ছে—তবু জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬’ বলছে, উন্নয়নের এই সব সূচক মানুষের মনের প্রকৃত প্রশান্তির সঙ্গে সরলরৈখিকভাবে যুক্ত নয়। ১৪৭টি দেশের এই তালিকায় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সামগ্রিক অবস্থান হতাশাজনক, আর বাংলাদেশ রয়েছে ১২৭ নম্বরে—সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও যা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিশ্লেষণ করে এই ডেস্ক রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
সুখ পরিমাপের পদ্ধতি
গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোল, অক্সফোর্ড ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় এই প্রতিবেদন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি কাল্পনিক সিঁড়ির কথা ভাবতে বলা হয়—শূন্য মানে জীবনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা, দশ মানে সম্ভাব্য সেরা জীবন। উত্তরদাতারা নিজেদের বর্তমান অবস্থান বলেন, আর তিন বছরের গড় তথ্যের ভিত্তিতে দেশের র্যাংকিং নির্ধারিত হয়। এরপর ছয়টি নির্দিষ্ট উপাদান—মাথাপিছু আয়, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবন প্রত্যাশা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতির ধারণা—বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা করা হয় কেন একেক দেশের মানুষ নিজেদের জীবনকে একেকভাবে মূল্যায়ন করছেন। অর্থাৎ এই ছয়টি উপাদান সরাসরি র্যাংক তৈরি করে না, বরং ব্যবধানের কারণ ব্যাখ্যা করে।
শীর্ষে যারা, প্রান্তে যারা
গত ১৯ মার্চ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিনল্যান্ড। তবে এবারের বড় চমক লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা, যা প্রতিবেদনের ১৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে—২০২৩ সালের ২৩তম অবস্থান থেকে চতুর্থে উঠে এসে। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড ও ইসরায়েল। উল্লেখযোগ্য বিষয়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কোনো প্রধান ইংরেজিভাষী দেশ শীর্ষ দশে ঠাঁই পায়নি—অস্ট্রেলিয়া ১৫, যুক্তরাষ্ট্র ২৩, কানাডা ২৫ ও যুক্তরাজ্য ২৯ নম্বরে। তালিকার একেবারে তলানিতে আফগানিস্তান, সিয়েরা লিওন ও মালাউই, যার মধ্যে আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে অসুখী দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক চিত্র
এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু প্রবণতা হলো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সামগ্রিক পশ্চাৎপদতা। শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় একটিও মুসলিম দেশ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে ২১ নম্বরে, এরপর সৌদি আরব ২২, কুয়েত ৩০ ও কাজাখস্তান ৪৩ নম্বরে। শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটি এবং শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১৮টি মুসলিম দেশ ঠাঁই পেয়েছে। পুরো ১৪৭ দেশের তালিকায় মোট ৩৭টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশের অবস্থানই মাঝামাঝি থেকে নিচের সারিতে। ইরান রয়েছে ৯৭ নম্বরে।
গবেষকদের ভাষ্য স্পষ্ট—তালিকায় পিছিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে ইসলাম ধর্ম বা মুসলিম সমাজ সুখের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি। মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে—ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তানের মতো দেশের মানুষের জীবন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, দুর্নীতি, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি এবং কোথাও কোথাও নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, সুখের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে নয়, বরং মানুষ কতটা নিরাপদ বোধ করছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর, সমাজে পারস্পরিক আস্থা কতটা এবং মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আশাবাদী—এসব প্রশ্নের সঙ্গে।
একটি লক্ষণীয় বিষয়—উদ্বেগজনক সূচকে থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন (১০৮), অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান এবং দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা সোমালিয়াও (১২২) কোনো কোনো সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে কিছুটা গরমিলও চোখে পড়েছে—কোথাও ১০৪, কোথাও ১০৯ নম্বর বলা হয়েছে, যা তথ্যসূত্রভেদে সামান্য পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই অসামঞ্জস্য উল্লেখযোগ্য—মূল প্রতিবেদন সরাসরি যাচাই না করে কোনো একক পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ কোথায়
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান—নেপাল ৯২, পাকিস্তান ১০৪ (কোথাও ১০৯), ভারত ১১৬, বাংলাদেশ ১২৭, শ্রীলঙ্কা ১৩৩ এবং আফগানিস্তান ১৪৭তম—তালিকার একেবারে শেষে। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুখী দেশের তকমা এবারও ধরে রেখেছে নেপাল, আর বাংলাদেশ এই অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি—কেবল শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।
বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবনমন ও সাম্প্রতিক উত্তরণ
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের অবস্থান একরৈখিক নয়। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ছিল ৯৪তম, ২০২৩ সালে নেমে যায় ১১৮তম, ২০২৪ সালে আরও নিচে ১২৯তম, আর ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন অবস্থানে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩৪তম স্থানে। অর্থাৎ টানা চার বছর ধারাবাহিক অবনমনের পর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ৭-৮ ধাপ এগিয়ে ১২৭ নম্বরে উঠে এসেছে। এই উন্নতিকে ইতিবাচক বলা গেলেও, ১৪৭ দেশের মধ্যে ১২৭তম অবস্থানকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক বলা যায় না বলে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত কেন দেশটি এখনও তালিকার এত নিচের দিকে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে।
কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ—কাঠামোগত পাঁচ কারণ
একাধিক প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ একত্র করলে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার পেছনে স্পষ্ট কয়েকটি কাঠামোগত কারণ উঠে আসে:
১. দুর্নীতি নিয়ে জনধারণা। সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতি ব্যাপক—এমন ধারণা পোষণ করেন দেশের বড় একটি অংশের মানুষ, যা জীবনযাত্রার মান ও মানসিক প্রশান্তিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
২. সামাজিক সহায়তার ঘাটতি। বিপদে-আপদে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তা—যাকে সূচকের ভাষায় ‘সোশ্যাল সাপোর্ট’ বলা হয়—সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে। অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন সংকটকালে পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে তাঁরা খুঁজে পান না।
৩. লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং প্রতিদিনের জীবনসন্তুষ্টি কমিয়ে দিচ্ছে।
৪. সীমিত ব্যক্তিস্বাধীনতা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছেমতো নেওয়ার সুযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সূচকেও বাংলাদেশের স্কোর তুলনামূলকভাবে কম।
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঘাটতি। সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অবহেলা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ ও হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, নগরজীবনের চাপ, তীব্র যানজট, বায়ুদূষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বৈষম্য। তাঁর মূল যুক্তি হলো, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারে না—প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জীবনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মূল্যায়নও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে না।
ফিনল্যান্ড কেন বারবার শীর্ষে—তুলনামূলক শিক্ষা
ফিনল্যান্ডের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্যে যে কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলনীয়। দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ায় নাগরিকদের সন্তানের ভবিষ্যৎ বা নিজের অসুস্থতা নিয়ে বাড়তি আর্থিক দুশ্চিন্তা করতে হয় না। কেউ চাকরি হারালে, অসুস্থ হলে বা অবসরে গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা দেয়, আর ‘হাউজিং ফার্স্ট’ নীতির কারণে দেশটিতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থার দেশগুলোর একটি হওয়ায় সরকার, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও কর ব্যবস্থার ওপর নাগরিকদের আস্থাও গভীর। কর্মক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কাজ নিরুৎসাহিত করা হয়—সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০, সঙ্গে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বৈতনিক বার্ষিক ছুটি। হেলসিংকিভিত্তিক এক উদ্যোক্তার ভাষ্যে, দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই সুদৃঢ় যে সাত বছর বয়সী শিশুও একা স্কুলে যেতে পারে।
এই তুলনা থেকে স্পষ্ট, সুখের সূচকে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো—শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, পারস্পরিক আস্থা এবং জীবন ও কর্মের মধ্যে ভারসাম্য। এগুলো কোনোটিই নিছক ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত অগ্রাধিকারের ফসল।
বৈশ্বিক প্রবণতা: তরুণদের অসুখী হওয়ার নতুন সংকট
এবারের প্রতিবেদনে একটি বাড়তি সতর্কবার্তাও রয়েছে, যা উৎসবের আবহের মধ্যেও একটি বৈশ্বিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মানসিক প্রশান্তি দ্রুত কমছে। ১৪০টি দেশের প্রায় এক লাখ মানুষের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, বিশেষত ইংরেজিভাষী ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে ২৫ বছরের কম বয়সীদের জীবনসন্তুষ্টি গত এক দশকে দ্রুত কমেছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, দৈনিক সাত ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সঙ্গে যুক্ত, আর যাঁরা দিনে এক ঘণ্টার কম ব্যবহার করেন তাঁরা একেবারেই ব্যবহার না করা মানুষের চেয়েও বেশি সুখী বলে জানিয়েছেন। ডিজিটাল যুগে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের সবচেয়ে ঝকঝকে মুহূর্তগুলো দেখে নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা আত্মমূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এই প্রবণতা বাংলাদেশের নগরকেন্দ্রিক তরুণ সমাজের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক।
ডেস্কের পর্যবেক্ষণ
সব সূত্র মিলিয়ে যে চিত্র উঠে আসে তা হলো—মুসলিম দেশগুলোর সামগ্রিক পশ্চাৎপদতা এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট অবস্থান, দুটোই মূলত ব্যাখ্যা করা যায় ধর্মীয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মানদণ্ডে। যেসব মুসলিম দেশ তুলনামূলক স্থিতিশীল, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগঠিত—যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত—তারা শীর্ষ ৫০-এর মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। বিপরীতে যুদ্ধ-সংঘাত-অস্থিরতায় জর্জরিত মুসলিম দেশগুলোই তালিকার নিচের দিকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুদ্ধ বা সংঘাতের বিষয় না থাকলেও দুর্নীতি, দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, মূল্যস্ফীতি, সীমিত ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি—এই পাঁচটি কাঠামোগত সমস্যাই মূলত সুখের সূচকে দেশের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
তবে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালে সাত-আট ধাপ অগ্রগতি একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও তা উদযাপনের মতো তেমন কিছু নয়—কারণ এখনও ১৪৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের এক-তৃতীয়াংশে। বিশেষজ্ঞদের সুস্পষ্ট বার্তা হলো, নিছক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের সংখ্যা দিয়ে নাগরিকের প্রকৃত জীবনসন্তুষ্টি বিচার করা যাবে না। বরং দুর্নীতি দমন, বিশ্বাসযোগ্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ ছাড়া সুখের সূচকে বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেই ধারণা করা যায়।
সম্পাদকীয় নোট: বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তান ও কয়েকটি দেশের র্যাংকিং নিয়ে সামান্য অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে (যেমন পাকিস্তানের অবস্থান কোথাও ১০৪, কোথাও ১০৯ বলা হয়েছে)। মূল প্রতিবেদন হাতে না থাকায় এই ডেস্ক রিপোর্টে একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানই যথাসম্ভব ক্রস-চেক করে উপস্থাপন করা হয়েছে; পাঠকদের নির্ভুল তথ্যের জন্য মূল ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো।












মন্তব্য করুন