সাগর-রুনি হত্যা: ১৪ বছরেও অজানা খুনি ও মোটিভ, টাস্কফোর্স পেল আরও ছয় মাস
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হওয়া সাগর-রুনির হত্যাকারী ও হত্যার উদ্দেশ্য ১৪ বছরেও সুনির্দিষ্ট করা যায়নি। ঘটনাস্থলে চারজনের ডিএনএ মিলেছে। সাগর ও রুনি ছাড়া বাকি দুই অজ্ঞাত পুরুষের পরিচয় জানা যায়নি। পারিবারিক, পেশাগত, অর্থ বা জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের কোনো প্রমাণ পায়নি টাস্কফোর্স। হাইকোর্ট টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। পরবর্তী আদেশের দিন ২৯ এপ্রিল।#SagarRuni #HighCourt #TaskForce #MeehaNews

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের শনাক্ত করা যায়নি, হত্যার মোটিভও অজানা। মামলার তদন্তে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বিবেচনা করে হাইকোর্ট মঙ্গলবার তদন্তের জন্য আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন।
প্রথম আলোর তথ্যমতে, বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ আদেশ দেন। পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রাখা হয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল। টাস্কফোর্স এ নিয়ে চতুর্থবার সময় পেল।
ঘটনাস্থলে দুই অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে: তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। এদের একজন সাগর, একজন রুনি। বাকি দুই পুরুষ কারা, তা জানা যায়নি। সাগরকে বাঁধার চাদর ও রুনির টি-শার্টের নমুনায় এই দুজনের প্রোফাইল মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাবে চেষ্টা করেও ডিএনএর অতিরিক্ত মিশ্রণের কারণে তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।
জব্দ করা ছুরি, বঁটি ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত এবং ২৫ জনের নমুনা বিদেশের একাধিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। কোনোটির সঙ্গেই ডিএনএ মেলেনি।
‘পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে টাস্কফোর্স বলেছে, দুজনের কারও শরীরেই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাত ছিল না। হত্যাকাণ্ড পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে মেলে না। শরীরে অনেক ক্ষত ছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ। তবে দুজনই মৃত্যুর আগে ক্ষত নিয়ে অনেকক্ষণ বেঁচে ছিলেন। ঘাড়, পিঠ ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রতিবেদনের ভাষ্য, ক্ষতের পরিমাণ দেখে বোঝা যায়, খুনিরা তাড়াহুড়া করেনি।
মোটিভ নিয়ে কী পাওয়া যায়নি
টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহ, পেশাগত শত্রুতা, অর্থ কিংবা জমিজমার বিরোধের কোনো প্রমাণ মেলেনি। একজনকে হত্যার পর অন্যজনের আত্মহত্যার প্রমাণও নেই। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও পেশাগত বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে, অর্থাৎ হত্যার পর। তাই সামিট গ্রুপের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। লুট হওয়া মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার হয়নি।
আইসিটির তথ্যের অপেক্ষা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটররা টাস্কফোর্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও এক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই চলছে, বিষয়টি প্রমাণিত নয়। এই দুজনের বক্তব্য প্রতিবেদনসংক্রান্ত সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি। আইসিটির কাছে থাকা ডিজিটাল আলামত ও তথ্য চেয়ে ১৩ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো তা পাওয়া যায়নি।
সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার পূর্বাপর
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর ও রুনি। সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনে, রুনি এটিএন বাংলায়। রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে তদন্ত করে ডিবি, পরে হাইকোর্টের আদেশে র্যাব। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।





