আসামে উচ্ছেদ নিয়ে ভারতের জবাবদিহি চাইলেন হাবিবুল্লাহ মিয়াজী
খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী আসামে মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, আসামে ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি ও ১০টির বেশি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। আসাম সরকারের ভাষ্য, সংরক্ষিত বনভূমি ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাটে অভিযান চালানো হয়েছে।#Assam #IndianMuslims #HumanRights #Bangladesh #MeehaNews

ভারতের আসামে মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। তাঁর অভিযোগ, মসজিদ ও বাড়িঘর ভেঙে ভারত মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, আসামে বাঙালি মুসলমানদের ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি এবং ১০টির বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, “গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার হিন্দুত্ববাদী লক্ষ্য থেকে মুসলিম ঐতিহ্য মুছে দিতে চাইছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার কথা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে রেসকোর্স মসজিদ সরানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গও এসেছে। খেলাফত আন্দোলনের আমিরের ভাষ্য, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে সরকারি গেজেটভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি এবং নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের ঐতিহ্য তালিকায় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তিন সদস্যের একটি প্যানেলের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, আসাম ও উত্তর প্রদেশে মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্যানেলটির নাম বা প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
ভারতীয় মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। তাঁর ভাষায়, পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের জন্য “ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য পাইওনিয়ারের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, সংরক্ষিত বনভূমি ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতেই এই অভিযান। বাসিন্দারা এ দাবি মানেন না। তাঁদের অভিযোগ, অভিযানে কয়েক দশকের পুরোনো ১০টির বেশি মসজিদও ভাঙা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গত এক দশকে আসামে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ মুসলমান।
আসামের উচ্ছেদের নিন্দা জানিয়ে আজ পৃথক বিবৃতি দিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। বিবৃতিতে সই করেছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী আজহারী।





