এআই এজেন্টের সামনে বন্ধ হচ্ছে ওয়েবের দরজা
ইয়েলপ শুধু ডেটা লাইসেন্সিং কর্মসূচিতে টাকা দেওয়া এজেন্টকে ঢুকতে দেয়। জেপিমরগান চেজ ও চার্লস শোয়াব বাইরের এজেন্টকে গ্রাহকের টাকা সরাতে দিচ্ছে না। ২০২৫ সালে অ্যামাজন পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। চলতি বছরের ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত অ্যামাজনের পক্ষে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। অ্যামাজনের অভিযোগ, মেটার এজেন্ট মিউজ নিজের পরিচয় দেয় না। মেটা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অ্যামাজনের নিজেরও কেনাকাটার এজেন্ট আছে। সব বাধা ইচ্ছাকৃত নয়। ওয়ালমার্ট ও জিলো বলেছে, তাদের বট-প্রতিরোধব্যবস্থা অনিচ্ছাকৃতভাবেও এজেন্ট আটকাতে পারে। #AIAgents #AgenticAI #Amazon #Perplexity #MeehaNews

মেটার নতুন এআই এজেন্ট (AI agent) মিউজ (Muse) দিয়ে অ্যামাজনে কেনাকাটা করতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যবহারকারীরা একটি পপআপ দেখতে পান। তাতে লেখা ছিল, অননুমোদিত এআই এজেন্টের প্রবেশ অ্যামাজনের ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করে। ওপেনএআই, মেটা, গুগল আর এক্সএআই এখন যে প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে জোরালো প্রচার চালাচ্ছে, সেটি বড় ওয়েবসাইটগুলোর দরজায় আটকে যাচ্ছে। প্রতিশ্রুতি ছিল, এসব এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করবে, ইমেইলের ইনবক্স গোছাবে, জুতা কিনবে।
প্রযুক্তি সাংবাদিকতার ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চকে ইয়েলপ জানিয়েছে, যেসব এজেন্ট তাদের ডেটা লাইসেন্সিং কর্মসূচিতে টাকা দেয়, শুধু সেগুলোকেই তারা ঢুকতে দেয়। ডেল্টা এয়ারলাইনস বলেছে, তৃতীয় পক্ষের এজেন্টকে টিকিট কাটতে দেওয়ার মতো কোনো অংশীদারত্ব তাদের নেই। ব্যাংক জেপিমরগান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন ১৩ অক্টোবর আয়ের ঘোষণায় “বেপরোয়া এজেন্ট” নিয়ে সতর্ক করেছেন। ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে চার্লস শোয়াবের প্রধান নির্বাহী রিক উরস্টার বলেছেন, গ্রাহকের টাকা সরাতে চাওয়া বাইরের এজেন্টকে তাঁরা প্রতি সপ্তাহে কয়েক ডজনবার আটকান। তাঁর প্রশ্ন, কিছু ভুল হলে দায় কার? কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, কারস ডটকম ও অ্যামট্র্যাকের সাইটে আগে তাঁদের এজেন্ট কাজ করত, এখন ঢুকতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সংঘাতের আইনি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এক বছর আগে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যামাজন এআই প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটির বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল, পারপ্লেক্সিটির কমেট (Comet) ব্রাউজারের এজেন্ট নিজের পরিচয় গোপন করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ঢুকে কেনাকাটা করছে। অ্যামাজনের বক্তব্য ছিল, এমন তৃতীয় পক্ষকে খোলাখুলি কাজ করতে হবে। কোনো প্ল্যাটফর্ম তাদের ঢুকতে দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্তকেও সম্মান করতে হবে। পারপ্লেক্সিটির পাল্টা দাবি, অ্যামাজন ব্যবহারকারীর স্বার্থের চেয়ে বিজ্ঞাপন ও স্পনসর করা ফল দেখাতেই বেশি আগ্রহী। দাবিটি বিতর্কিত, তবে এর পেছনের প্রেক্ষাপট সত্য। অ্যামাজনের নিজস্ব হিসাবে ২০২৫ সালে তাদের বিজ্ঞাপন সেবা থেকে আয় হয়েছে ৬ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার। যে এজেন্ট সরাসরি চেকআউটে চলে যায়, সে এসব বিজ্ঞাপন দেখে না।
চলতি বছরের মার্চে নিম্ন আদালত অ্যামাজনের পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত সর্বসম্মতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অ্যামাজনের সিস্টেমে আসলে ঢুকছেন ব্যবহারকারী, পারপ্লেক্সিটি নয়। এজেন্টভিত্তিক এআই নিয়ে এটিই প্রথম আপিল-রায়, তবে মামলাটি এখনো নিম্ন আদালতে চলছে।
রায়ের পরও অ্যামাজন অবস্থান বদলায়নি। মিউজ চালুর ১২ দিনের মাথায়, ২০ সেপ্টেম্বর, অ্যামাজন সেটিকে আটকে দেয়। অ্যামাজনের অভিযোগ, মিউজ নিজের পরিচয় দেয় না, আর এটি গ্রাহকের লগইন তথ্য সংরক্ষণ করে বলে মনে হয়। মেটা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের তথ্য মিউজ দেখতে পায় না। দুই পক্ষের কোনো দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। অথচ অ্যামাজনের নিজেরও এজেন্ট আছে। এর একটি “বাই ফর মি” (Buy for Me), যা ব্যবহারকারীর হয়ে অন্য সাইট থেকে পণ্য কেনে। অ্যামাজন বলছে, এই এজেন্ট নিজের পরিচয় দেয় এবং ব্র্যান্ডগুলো চাইলে এর আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
পরে এক্সএআইয়ের গ্রক (Grok) এজেন্টও অ্যামাজনে আটকে যাচ্ছে বলে ব্যবহারকারীরা জানান। এরপর ইলন মাস্ক অ্যামাজনের একটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান খোলার ইঙ্গিত দেন। অ্যামাজন এই বাধার কথা নিশ্চিত করেনি। মেটা লড়াইয়ে না গিয়ে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, সেফোরা ও বেস্ট বাইয়ের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে।
সব বাধা পরিকল্পিত নয়। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ালমার্ট বলেছে তাদের সাইটে মিউজ আটকে যাওয়া ছিল অনিচ্ছাকৃত। ব্যবহারকারী মানুষ কি না, তা যাচাইয়ের ধাপে বিঘ্ন ঘটলে এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়। জিলোও জানিয়েছে, তাদের বট-প্রতিরোধব্যবস্থা মাঝেমধ্যে বৈধ এজেন্টকেও আটকায়। ওয়েবসাইট সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ১৫ সেপ্টেম্বর এআই বট নিয়ে তাদের ডিফল্ট সেটিং বদলায়। অনেকের সন্দেহ, এই পরিবর্তনও বাধার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ক্লাউডফ্লেয়ার বলেছে, এ নিয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে কোন বাধা ইচ্ছাকৃত আর কোনটি নিরাপত্তাব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে তা বোঝা কঠিন।
ব্যাংকগুলো নিরাপত্তার যুক্তি দিচ্ছে, তবে নিজেদের বিকল্পও তৈরি করছে। শোয়াব মডেল কনটেক্সট প্রটোকল (MCP) সার্ভার দেবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের পছন্দের এআই হিসাব দেখতে পারবে, কিন্তু টাকা সরাতে পারবে না। পাশাপাশি তারা গ্রাহকদের নিজস্ব এআই সহকারী চার্লির দিকে নিচ্ছে। অর্থাৎ দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু কে ঢুকবে, কোন শর্তে আর কার মাধ্যমে, সেই নিয়ন্ত্রণ প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে।
এখানে দুই পক্ষেরই যুক্তি আছে। পাসওয়ার্ড হাতে পাওয়া একটি সফটওয়্যার ভুল লেনদেন করলে দায় কার, সে প্রশ্নের উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের আইনেও এখনো নেই। আবার নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে কেবল টাকা দেওয়া এজেন্ট বা নিজের এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হলে ব্যবহারকারীর বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা কমে। মেটা, ওয়ালমার্ট ও স্ট্রাইপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একটি উন্মুক্ত মানদণ্ড তৈরির কাজ করছে, যা ঠিক করবে এজেন্ট কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সমাধান সম্ভবত সেখানেই। এজেন্টকে নিজের পরিচয় দিতে হবে, ওয়েবসাইটকে প্রকাশ্যে নিয়ম জানাতে হবে, আর দায়ের প্রশ্নটি আইনে স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে এজেন্টের ইন্টারনেট হয়ে উঠবে কয়েকটি অনুমোদিত চুক্তির ইন্টারনেট।





