বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
প্রতিবেদনে অভিযোগ, গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারে বরিশাল ডিসি কার্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাবেক ডিসি খায়রুল আলম সুমন ও এডিসি (সার্বিক) সালমা পারভিন। ১১ লাখ টাকার ১১টি ভুয়া বিলের অভিযোগ উঠেছে মুদি দোকান তালুকদার স্টোরসের নামে। দোকান মালিকের স্বামী বলেছেন, সমপরিমাণ টাকা…

বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন ও কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূত্রগুলোর দাবি, একই কাজের বিপরীতে দুই বিল তোলা, চেকে বিল পরিশোধ করে সেই টাকা আবার তুলে নেওয়া এবং পুরোনো প্রিন্টার-কম্পিউটার কিনে নতুনের বিল দেখানোর মাধ্যমে এ অর্থ তোলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে মোট আত্মসাতের অঙ্ক ‘কোটি টাকার বেশি’ বলা হলেও উল্লেখ করা আইটেমগুলোর যোগফল তার চেয়ে কম। অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিবছর ডিসি কার্যালয়ের আনুষঙ্গিক খরচের জন্য বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেয়। বছর শেষে খরচের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। অভিযোগ, জুন ক্লোজিংয়ের সময় উদ্বৃত্ত টাকা ভুয়া বিলে তুলে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে। ২০২৪ সালে ডিসি কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের কাজ গণপূর্ত বিভাগ করে, ১৪ লাখ টাকা বিল ছাড় হয়। অভিযোগ, গত জুন ক্লোজিংয়ে একই কক্ষে টাইলস ও গ্রিলের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ করে ১০ লাখ টাকা তোলা হয়। ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে। আক্তারুজ্জামান আমার দেশকে প্রথমে বলেন, তিনি সম্প্রতি ডিসি অফিসে কাজ করেননি, পরে কাজ করার কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলেননি। সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান বলেন, তাঁর ভাই ডিসি অফিসে কোনো কাজ করেননি, কেউ হয়তো তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন। কে ব্যবহার করেছেন, তা তদন্তে বের হবে বলে তিনি জানান।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মনিহারি সামগ্রীর জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল, খরচ হয় ১০ লাখ। অভিযোগ, উদ্বৃত্ত ২৪ লাখের মধ্যে ১১ লাখ টাকা তালুকদার স্টোরসের নামে ১১টি ভুয়া বিলে তোলা হয়েছে। দোকানটির মালিক জাহানারা বেগমের স্বামী হুমায়ূন কবীর জানান, বিল দেখিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার পর সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান তাঁদের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে তা তুলে নেন। তাঁদের পাওনা আগের টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। একই দোকানের নামে বাঁধাইয়ের পাঁচ লাখ টাকার বিল দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। হুমায়ূন বলেন, দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। আসাদুজ্জামান বলেছেন, তিনি চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে আনেননি। এ ছাড়া শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের এক লাখের বেশি উদ্বৃত্ত টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ আছে।
প্রতিবেদনে সাবেক ডিসি ও এডিসি সালমা পারভিনের নির্দেশে টাকা তোলার অভিযোগ আছে। সালমা পারভিনের বক্তব্য জানতে দুই দিন তাঁর কার্যালয়ে গেলেও তিনি দেখা দেননি। সাবেক ডিসির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।
বর্তমান ডিসি মামুন খন্দকার আমার দেশকে বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের সময় তিনি ছিলেন না, পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই। অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে নির্বাচনকালীন তহবিল নিয়েও খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে আমার দেশে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। পরে তাঁকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং মামুন খন্দকারকে ডিসি করা হয়। ওই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।




