কুমিল্লায় থামছে না কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, এক রাতে আটক ২৫২
কুমিল্লার ১৮টি থানার পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর চালানো অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে; আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই চলছে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম পাঁচ দফায় ২ হাজার ৪২ জন আটক…

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে ২৫২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাতভর জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। কোন থানায় কতজন আটক হয়েছেন, তা পুলিশ জানায়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান শুক্রবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় চলা নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আছে এমন এলাকা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লুৎফর রহমান বলেন, অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ অভিযান শুরু হয়। অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন, পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সমকালের তথ্যমতে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের কিশোর গ্যাংয়ে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পরই জেলায় এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল, যাঁদের ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ২ অক্টোবরের পঞ্চম দফায় আটক ৩৭০ জনের মধ্যে ২৭৯ জন মুচলেকায় মুক্তি পান, ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই অভিযানেই আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজন গ্রেপ্তার হন। ৫ অক্টোবর ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’, ‘১২০৭’ ও ‘পিএক্স ১০’ গ্যাংয়ের শীর্ষ পাঁচজনও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




