কেন গভীর সমুদ্রে বিশাল পাথর ফেলছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ?
গ্রিনপিস ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে সাউদার্ন নর্থ সি সুরক্ষিত এলাকায় সমুদ্রতলে পাথর ফেলেছে। বিবিসির তথ্যমতে পাথর ৯টি, প্রতিটির ওজন সর্বোচ্চ ২ টন। সংগঠনটির দাবি, এতে ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বটম ট্রলিংমুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, সামুদ্রিক সব কর্মকাণ্ড আইন মেনে হওয়া উচিত। সরকার আরও কঠোর বিধিনিষেধের কথা ভাবছে। ২০২২ সালে কর্নওয়াল উপকূলেও পাথর ফেলেছিল গ্রিনপিস।#Greenpeace #BottomTrawling #NorthSea #MarineProtection #MeehaNews

বটম ট্রলিং (bottom trawling) ঠেকাতে ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রতলে বিশাল পাথর ফেলেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস। সাউদার্ন নর্থ সি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (Marine Protected Area, এমপিএ) নামের সুরক্ষিত এলাকায় গত সপ্তাহান্তে দুই দিনে এ কাজ হয়। গ্রিনপিস ইউকে সোমবার (২ নভেম্বর) বিষয়টি জানায়। বিবিসির তথ্যমতে পাথর ফেলা হয়েছে ৯টি।
বটম ট্রলিং পদ্ধতিতে সমুদ্রের তলদেশে ভারী জাল টেনে মাছ ধরা হয়। গ্রিনপিসের ভাষ্য, এতে তলদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অনেক মাছ খাদ্যসংকটে পড়ে। ট্রলিংয়ের শব্দদূষণ হারবার পোরপয়েজ (harbour porpoise) নামের সামুদ্রিক প্রাণীর শিকারের সক্ষমতাও নষ্ট করে। সংগঠনটির হিসাবে, এই এলাকা যুক্তরাজ্যের উপকূলের বাইরের এমপিএগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বটম ট্রলিংয়ের শিকার। ২০২৫ সালে এখানে অন্তত ৩৭ হাজার ২০০ ঘণ্টা তলদেশ-টানা জালে মাছ ধরা হয়েছে। এলাকাটি যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরে থাকা পোরপয়েজের প্রায় ২০ শতাংশের আবাস।
গ্রিনপিস দাবি করেছে, পাথরগুলো ফেলে তারা ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা কার্যত বটম ট্রলিংমুক্ত করেছে। সংগঠনটি জানায়, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বছরের পর বছর বৈঠক করেও অগ্রগতি মন্থর ছিল। তাই তারা অনুমতি ছাড়াই শেষ উপায় হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। পাথর ফেলার পর কর্তৃপক্ষকে অবস্থান জানানো হয়েছে, যাতে মানচিত্র হালনাগাদ করে অন্য জাহাজকে সতর্ক করা যায়। মেরিন ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশন অবস্থানের বিবরণ প্রকাশ করেছে। গ্রিনপিসের জাহাজ আর্কটিক সানরাইজ আগামী দিনগুলোয় এলাকায় টহল দেবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও পল্লিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় দেশটিতে কঠোর আইন আছে এবং সমুদ্রে সব কর্মকাণ্ড আইন মেনে করা উচিত। সমুদ্র ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ইতিমধ্যে ১০০টির বেশি স্থানে ক্ষতিকর মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সরকার আরও কঠোর বিধিনিষেধের কথা ভাবছে।
গ্রিনপিস এর আগে ২০২২ সালে কর্নওয়াল উপকূলে ১৮টি পাথর ফেলেছিল।





