জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচার শুরু
ঢাকার একটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রোববার (৮ নভেম্বর) জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেছেন। আসামিরা হলেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। সবাই কারাগারে আছেন। আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন ৯ ডিসেম্বর। চার্জশিট অনুযায়ী তিন আসামিই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্ষার আইনজীবী তাঁকে অন্যায়ের শিকার বলে দাবি করেছেন।#Zobayed #JagannathUniversity #Dhaka #MurderTrial #MeehaNews

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তাঁর প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। তিনজনই কারাগারে আছেন। শুনানির দিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন গত ৩০ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তিনজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জোবায়েদ (২৫) জবির পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং টিউশনি করতেন। দীর্ঘদিন বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, বর্ষার সঙ্গে মাহিরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার ঘনিষ্ঠতার কথা জেনে মাহির ক্ষুব্ধ হন। বর্ষা জোবায়েদের কাছে তাঁর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও থাকার অভিযোগ তুলে মাহিরকে হত্যায় প্ররোচিত করেন। মাহির ও আয়লান মিলে পরিকল্পনা করেন। একটি সুইচ গিয়ার চাকু জোগাড় করেন এবং কয়েক দিন ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে জোবায়েদ হোয়াটসঅ্যাপে বর্ষাকে লাইভ লোকেশন পাঠান। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এভাবে বর্ষা জোবায়েদের অবস্থান মাহিরকে জানাচ্ছিলেন। বিকেলে জোবায়েদ বর্ষার বাসায় পড়াতে গেলে ভবনের নিচতলায় মাহির তাঁকে থামান। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহির সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জোবায়েদের গলায় আঘাত করেন। ওপরে ওঠার সময় তৃতীয় তলায় লুটিয়ে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
রাতে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বংশালের নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় গিয়ে সিঁড়ির তৃতীয় তলায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ২০ অক্টোবর কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে জোবায়েদের দাফন হয়। পরদিন এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। ওই দিনই তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
প্রীতম নামে আরেক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এগোবে।
বর্ষার আইনজীবী নূর মাহাবুবুল আলম এর আগে দাবি করেছিলেন, বর্ষা এ মামলায় অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর তিন আসামির জামিন নাকচ হয় এবং অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে যায়।





