নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তনুশ্রী দত্ত: ‘আমার জীবন দুর্বিষহ করেছিলেন’
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তনুশ্রী দত্ত বলেছেন, ‘তিনি আমার জীবন দুর্বিষহ করেছিলেন’ এবং অভিনেতা কখনো ক্ষমা চাননি। ২০০৮ সালের ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির সেটে অশোভন আচরণের অভিযোগ ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে আনেন তনুশ্রী। পাটেকর অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করেছেন। মামলাটি ২০১৯ সালে অপর্যাপ্ত প্রমাণের কারণে…

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে ভিডিও দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তিনি বলেছেন, পাটেকর কখনো তাঁর কাছে ক্ষমা চাননি।
ভিডিওতে তনুশ্রী বলেন, ‘তিনি আমার জীবন দুর্বিষহ করেছিলেন। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দানব ছিলেন। মৃত্যুর পরও এই লোক আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।’ তাঁর ভাষ্য, ‘ক্ষমা না চাইলে ঈশ্বরও ক্ষমা করেন না। আজ শয়তানের মৃত্যু হয়েছে।’ একজনের মৃত্যুতে তাঁর অপরাধ মুছে যায় না, এমন মন্তব্যও করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে তনুশ্রী কয়েকজন ইউটিউবার ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীকে ‘ভিউয়ের জন্য’ মন্তব্য করার দায়ে সমালোচনা করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মৃত্যুর খবর আসার পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তনুশ্রী জানিয়েছিলেন, সেদিন তাঁর কাজের দিন। লক্ষ্ণৌতে একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বলে তিনি এ নিয়ে পরে প্রতিক্রিয়া দেবেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। সে সময় তাঁর আশঙ্কা ছিল, সন্ধ্যায় গণমাধ্যম শুধু ‘ইভিল ডেড’ কথাটি নিয়েই আগ্রহী থাকবে।
তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় পাটেকর তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন, যা ভারতে ‘মি টু’ (#MeToo) আন্দোলনের সূচনা ঘটায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভাষ্য। পাটেকর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তনুশ্রীর অভিযোগের পর পাটেকরের বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) হয়। ২০১৯ সালে অপর্যাপ্ত প্রমাণের কারণে মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের মার্চে মুম্বাইয়ের একটি আদালত অভিযোগ দায়েরে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে কার্যক্রম খারিজ করেন। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত অভিযোগের মেরিট বিচার করেননি।
ভিডিওতে তনুশ্রী আরও দাবি করেন, ‘মি টু’ আন্দোলনের পর তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং ২০২৪ সালে কেউ তাঁর গাড়ির ব্রেক কেটে দিয়েছিল। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাটেকর ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার দোনা পাউলায় নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মহারাষ্ট্র সরকার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্যের ঘোষণা দেয়। পুনের কাছে দোনাজে গ্রামে তাঁর খামারবাড়িতে শেষকৃত্য হয়।




