ক্ষমতা হারানোর পর গৃহবন্দি করা হলো প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টকে
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্যারাগুয়ের সিনেট উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যের সর্বসম্মত ভোটে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাকে অভিশংসন করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবারের পদত্যাগপত্র সিনেট গ্রহণ করেনি। কৌঁসুলিরা ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোর পতনের তদন্তে পেনাকে গৃহবন্দির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। পেনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান কার্লোস কারভালোর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছে।#Paraguay #SantiagoPena #UenoBank #Impeachment #MeehaNews

ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোর পতনের জেরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিনেটের সর্বসম্মত ভোটে অভিশংসিত হওয়ার পর কৌঁসুলিরা তাঁকে গৃহবন্দির নির্দেশ দেন। এরপরই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
পেনা বৃহস্পতিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সিনেট তা গ্রহণ না করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ করে। অভিশংসনের প্রস্তাবে স্বার্থের সংঘাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে হস্তক্ষেপ, পেনশন তহবিলের অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম আড়াল করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ ছিল, উয়েনোর সঙ্গে পেনার স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ছিল। তিনি গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন।
রাজধানী আসুনসিওনে পেনার বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের কৌঁসুলিরা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে তাঁকে কৌঁসুলির কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। গৃহবন্দির খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসভবনের বাইরে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পুলিশ বাড়িটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে সংকটের সূত্রপাত হয়। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষকে সেবা দিত। এদের অনেকের আগে কোনো ব্যাংক হিসাব ছিল না। ঋণ বিতরণ পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল।
কৌঁসুলিরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান কার্লোস কারভালোর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তিনি ২০২৩ সাল পর্যন্ত উয়েনোর নেতৃত্বে ছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। উয়েনোর আট সাবেক নির্বাহীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। পেনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ ও দুই উপদেষ্টাও পদত্যাগ করেছেন।
পেনা কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিসংক্রান্ত সমস্যা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কারভালো উয়েনো-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন।





