কে এই স্টিফেন মিলার , যাকে চিফ অব স্টাফ করলেন ট্রাম্প
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সুসি ওয়াইলসের জায়গায় সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে মিলার হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হবেন। রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কয়েক দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা মিলারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তাঁর প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের দুই মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে মিলারের প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল।#StephenMiller #Trump #WhiteHouse #USPolitics #MeehaNews

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ (Chief of Staff) করেছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, সুসি ওয়াইলসের জায়গায় সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে দায়িত্ব নেবেন ৪১ বছর বয়সী মিলার। ওয়াইলস ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিযান দলে যাচ্ছেন। এর আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের দায়িত্ব নেবে।
মিলার এত দিন নীতিবিষয়ক উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা ছিলেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ বলেছেন। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং তাঁকে ‘ট্রাম্পের আদি সঙ্গী’ বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের মুখে মিলার ‘যুদ্ধকালীন উপদেষ্টা’।
ডেমোক্র্যাটরা সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস মিলারকে ‘বিপজ্জনক জেনোফোব ও বেপরোয়া চরমপন্থী’ বলে তাঁকে বরখাস্তের দাবি করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ট্রাম্প নির্বাচন থেকে কিছু শেখেননি। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া মিলারের বিরুদ্ধে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মিলার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা হাইস্কুলে পড়ার সময়ই রক্ষণশীল রাজনীতিতে যুক্ত হন। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ডিউক কনজারভেটিভ ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেন। পরে ওয়াশিংটনে কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটর জেফ সেশন্সের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিয়ে বক্তব্যের ধরন গড়ে দিতে ভূমিকা রাখেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল। ২০১৭ সালে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১৮ সালের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তৈরিতে তিনি জড়িত ছিলেন। দ্বিতীয় নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারের শিশুরা বাবা-মা থেকে আলাদা হয়। দেশজুড়ে ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে নীতিটি বদলান। ২০১৯ সালে সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার কিছু ই-মেইল প্রকাশ করলে মিলারের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ সমর্থনের অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন দাবিরও তিনি সমর্থক ছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে মিলার ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। ২০২৫ সালের মে মাসে ফক্স নিউজে তিনি জানান, আইসিইর জন্য দিনে অন্তত তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য ঠিক হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসের অভিযানে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হলে মিলার প্রথমে দুজনকেই ‘সন্ত্রাসী’ বলেন। পরে প্রেটির বিষয়ে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কারপ্রক্রিয়া চলা মাহমুদ খলিল গত জুলাইয়ে একটি মামলা করেন। তাতে মিলারও আসামি। খলিলের অভিযোগ, তাঁকে ও অন্য ফিলিস্তিনিদের আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্র করেছেন।
চিফ অব স্টাফ সাধারণত হোয়াইট হাউসের কর্মীদের তদারক, নিয়োগ এবং প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি ও বৈঠকের সময়সূচি দেখেন। প্রেসিডেন্টের কাছে কোন তথ্য ও কোন ব্যক্তি পৌঁছাবেন, তাতেও এ পদের প্রভাব থাকে। এ কারণে পদটিকে অনেকে ‘দ্বাররক্ষক’ বলেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী আদেশে এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় মিলার ভূমিকা রেখেছেন। নতুন পদে তাঁর প্রভাব কতটা বদলাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।





