১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রবেশ
১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে ঢুকতে পারছে; সাধারণ টিকিটের দাম ৭০ টাকা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর শুরু হয়েছে। একই দিন চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি হয়। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক আনার কথা জানান।#Chattogram #PlasticWaste #ChattogramZoo #MeehaNews

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে প্রবেশের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচির সঙ্গে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে জনসচেতনতামূলক র্যালিও বের হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় ঢুকতে পারছে। সাধারণ প্রবেশ টিকিটের দাম ৭০ টাকা। এ পর্যন্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থী এই সুযোগ নিয়েছে।
সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসন ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। স্মারক অনুযায়ী প্লাস্টিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব ইপসার। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। শুরুতে স্মারকের মেয়াদ এক বছর।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়তেই এই সুযোগ রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগের কথাও তিনি জানান। শিশুদের মুঠোফোনের পর্দার বাইরে এসে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর জোর দেন তিনি। ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলতে এবং বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় পানি জমতে না দিতে অনুরোধ করেন প্রশাসক। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
আগের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির তথ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ২৫ জুলাইয়ের অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য সরানো হয়। এতে ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে অভিযান হয়। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০ হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের কাজও হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান চলছে।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত। কর্মসূচিটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে হয়; সহযোগিতা করে সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।





