মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

খুলনায় পাঁচ দিনে গুলিতে দুই খুন, ২৪ ঘণ্টায় গুলিবিদ্ধ আরও তিন

গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে খুলনার তিনটি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। কোনো ঘটনাতেই কেউ গ্রেপ্তার হননি। ২২ অক্টোবর নগরীর পূর্ব বানিয়াখামারে তাওহিদুল ইসলাম তুষার আর জিন্নাহপাড়ায় গৃহবধূ খুশি আক্তার গুলিতে নিহত হন। সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর আর কয়েকটি ক্লিনিক-হাসপাতালে সশস্ত্র মহড়া ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনায় ৭১ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশ বলছে, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের অনেকে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছেন।#Khulna #CrimeNews #LawAndOrder #Bangladesh #MeehaNews

খুলনায় পাঁচ দিনে গুলিতে দুই খুন, ২৪ ঘণ্টায় গুলিবিদ্ধ আরও তিন
খুলনা মহানগরীতে একের পর এক গুলির ঘটনায় আতঙ্ক।

খুলনা মহানগরীতে ফের প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। প্রতিপক্ষকে গুলি করে জখম, হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর, ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি আর চাঁদাবাজির অভিযোগে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরী ও আশপাশের তিনটি এলাকায় তিনজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনার কোনোটিতেই গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে গত পাঁচ দিনে খুলনা মহানগরীতে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। একটি ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নগরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খুলনা মহানগর ও জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে ৭১ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরোধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া এবং গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার ঘটনায়।

২৪ ঘণ্টায় তিনজনকে গুলি

গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে খুলনার পৃথক তিন এলাকায় যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা হলেন:

  • বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি অহিদুল ইসলাম বাদল

  • আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখ

  • বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালমান হাওলাদার

সালমান হাওলাদারকে গুলি করার পাশাপাশি তাঁর ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ওই ব্যাগে কর্মস্থলের টাকা ছিল। জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো তিনি সেই টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই শাহ আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে শহিদুল ইসলাম সেজান, সাকিবুর রহমান জিতু ও রাব্বি চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন খুশি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় তাঁর বোন হাসি আক্তার বাদী হয়ে আশিক ও মিরাজ খানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলাতেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি।

গত শনিবার রাতে নগরীর টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সামনে রূপসা কলেজের প্রভাষক আকাশ কুণ্ডুকে (৪৫) গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনারও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

খুলনা মহানগর পুলিশের সদর জোনের সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তারের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাওহিদুল ইসলাম তুষার ও খুশি আক্তার হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর চাঁদা না দেওয়ায় আকাশ কুণ্ডুকে গুলি করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

ক্লিনিকেও অস্ত্রের মহড়া, চাঁদার অভিযোগ

শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, নগরীর বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সন্ত্রাসীদের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার রাতে নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। আতঙ্ক ছড়াতে ক্লিনিকের বাইরে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা আহত হন, এক কর্মীর মুঠোফোনও নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মহিদুল ইসলাম রাজু বলেন, কী কারণে হামলা হয়েছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের কাছে কেউ চাঁদা চেয়েছিল বলেও তিনি শোনেননি।

এর আগের দিন নগরীর প্রিন্স হাসপাতালে ঢুকে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা।

২৫ অক্টোবর দুপুরে মজিদ সরণিতে সন্ধানী ক্লিনিকের আরেকটি শাখায়ও সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ক্লিনিকের চিকিৎসক পার্থ সাহা বলেন, দুপুরে ৮ থেকে ১০ জন যুবক ক্লিনিকে ঢুকে ব্যবস্থাপককে খুঁজতে থাকে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। ব্যবস্থাপককে না পেয়ে পার্থ সাহার দিকে তাকিয়ে ‘ভালো হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয় তারা।

এদিকে ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর শেরেবাংলা সড়কের সুরক্ষা ক্লিনিকে পারভেজ নামের এক যুবক ফোন করে চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আতঙ্কের কারণে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি।

‘গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে আসছে’

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রেজাউর রহমান বলেন, প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। গত ১০ মাসে ৬০ জন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের অনেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের অনেকে মামলা করতে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে আগ্রহী হন না। চাঁদাবাজি কিংবা গুলির ঘটনায়ও অনেকে মামলা করতে চান না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসার প্রবণতা। এসব কারণে খুলনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

হাফিজুর রহমান

জেলা প্রতিনিধি

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।