জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জ, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন বউকে নিয়ে বরের বাড়ির উদ্দেশে যাওয়া একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে। সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে এলাকাবাসী বলছেন, এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি হোসেনপুরে।
যেভাবে ঘটল ঘটনা
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয় ওই দিনই, দুই পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি বরের বাড়ির দিকে রওনা দিলে পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আনুমানিক ২০-২৫ জন যুবক গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক নামিয়ে নেওয়া হয় নববধূ তামান্নাকে। ঘটনা এতটাই আকস্মিক ছিল যে বরযাত্রীদের অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করার সুযোগ পাননি বলে বরের স্বজনরা জানিয়েছেন।
প্রেমের সম্পর্কের সূত্র
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের সঙ্গে তামান্নার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। হোসেনপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরিবার মেনে নেয়নি—এই ক্ষোভ থেকেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। মেয়ের পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড়
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে লেখা ছিল—’জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। দলীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে তিনি ‘ডিউটি পাস’ পেয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী হলেও তিনি কীভাবে ওই অনুষ্ঠানে ডিউটি পাস পেয়েছিলেন তা তাঁর জানা নেই। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আতিকুর যে কাজ করেছেন তা অত্যন্ত অন্যায়; মেয়ের পরিবার আইনি ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।













man ejjot shob sesh!