মিরসরাই (চট্টগ্রাম), ২৪ আগস্ট ২০২৬ — চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় রোববার ও সোমবার পুলিশের পরিচালিত একাধিক পৃথক অভিযানে মোট সাতজন আইনের আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে চারজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে, আর বাকি তিনজনকে ফৌজদারি ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকসেবীদের কারাদণ্ড
পুলিশ জানায়, রোববার ও সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে চারজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদেরের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চারটি পৃথক মামলায় তাদের তিন দিন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রেলগেট এলাকা থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তার
এদিকে পৃথক এক অভিযানে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত মোশারফ (৪২) ও হাসান (৩৪) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত পৌনে দুইটার দিকে বারইয়ারহাট বাজারের রেলগেট-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়।
নারী-শিশু নির্যাতন মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার নিজ বাড়িতেই
আরেকটি ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোরারগঞ্জের গেরামারা এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশ।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কেন বারবার অভিযান জোরারগঞ্জে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় বারইয়ারহাট ও এর আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজার থেকে ঢাকামুখী ইয়াবা ও মাদক পাচারের একটি সক্রিয় করিডর হিসেবে পরিচিত। এ কারণে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। থানা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবেই অব্যাহত থাকবে।













মন্তব্য করুন