গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে এমপি আবদুল আজিজের ছেলে পুলিশ হেফাজতে
ঢাকার পিজি হাসপাতালে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (২৩)। একই রাতে নাটোর-৪ আসনের এমপি আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেছেন, মিন্টুর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। এমপি আজিজ দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এবং ছেলের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থার কথা বলেছেন।#NatoreNews #Gurudaspur #Chhatradal #MurderCase #MeehaNews

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাকিল (২৩)। দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের পাশে শাকিলের ওপর হামলা হয়। পেছন থেকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তেরা ধারালো অস্ত্রে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে তাঁকে আহত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার পিজি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নওশিন জাহান ঘটনার পরপর রাইজিংবিডিকে জানিয়েছিলেন, শাকিলের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, এমন ঘটনা কেউ চায় না। শাকিলকে যেভাবে কোপানো হয়েছে, তা বেদনাদায়ক। তিনি দাবি করেন, শাকিলের চিকিৎসার ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন; কিন্তু ছুটির কারণে চিকিৎসকেরা ঠিকমতো না থাকায় ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আজিজ আরও বলেন, জড়িত যে-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ছেলে হলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি বলেছেন। শাকিলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলায় মিন্টুকে আসামি করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।





