এমপিদের সম্পদের প্রকাশ্য রেজিস্টার চাইলেন তাসনিম জারা
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলার তজুমদ্দিনে এক সংবর্ধনায় বলেছিলেন, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। তাসনিম জারা এই মন্তব্যে একমত হয়ে স্পিকারকে আক্ষেপের বদলে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের আদলে এমপিদের সম্পদ, উপহার ও বিদেশ সফরের তথ্য নিয়মিত অনলাইনে প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছেন জারা। জারার হিসাবে, বর্তমান সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি।#Bangladesh #Parliament #Accountability #TasnimJara #MeehaNews

ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম যে আক্ষেপ করেছেন, তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা। তবে আক্ষেপ না করে নিজের পদ কাজে লাগিয়ে সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য যুক্তরাজ্যের আদলে এমপিদের সম্পদ ও উপহারের একটি প্রকাশ্য রেজিস্টার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন জারা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল বুধবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো স্পিকারকে সংবর্ধনা দেয়। সেখানে তিনি বলেন, “ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগ নাই।” দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “সৎ লোকের রাজনীতি করার পরিবেশ তো আমরা সৃষ্টি করতে পারি নাই।” সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, রাজনৈতিক দলগুলো যোগ্যতা দেখে মনোনয়ন দেয় না, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁর দেওয়া হিসাবে, বর্তমান সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি। তিনি লেখেন, ব্যবসায়ী বা ধনী হওয়া অপরাধ নয়, তবে আয়ের উৎস বৈধ কি না, তা জানার অধিকার জনগণের আছে।
জারার অভিযোগ, নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক এমপিকে দামি গাড়ি, ঘড়ি বা নতুন ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে দেখা যায়, আর প্রশ্ন করলে এগুলোকে “উপহার” বলা হয়। তাঁর মতে, উৎস অস্পষ্ট থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে জারা লেখেন, সেখানে এমপিদের সম্পদ, উপহার ও বিদেশ সফরের তথ্য কয়েক সপ্তাহ পরপর অনলাইনে হালনাগাদ করা হয়, ভুল তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও আছে। অথচ বাংলাদেশে এমপিরা পাঁচ বছরে একবার, নির্বাচনের আগে হলফনামা দেন, আর তা-ও ঠিকমতো যাচাই হয় না।
জারা মনে করিয়ে দেন, স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি এবং সংসদ সচিবালয় কমিশনের চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, সচিবালয়ের মাধ্যমে এমপিদের এসব তথ্য সংগ্রহ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের নিয়ম তৈরিতে স্পিকার ভূমিকা রাখতে পারেন। স্পিকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম খেতাবের কথা উল্লেখ করে জারা আশা প্রকাশ করেন, স্পিকার তাঁর পদ ব্যবহার করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন।
তাসনিম জারা গত ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।





