প্রধান কন্টেন্টে যান
সোম ৫ অক্টোবর ২৬
হেডলাইন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্য / মধ্যপ্রাচ্য

১৭০ ‘সাংবাদিক’ না সন্ত্রাসী? ইসরাইল-জাতিসংঘ দাবির মাঝে সিপিজের নীরব স্বীকৃতি

গাজা যুদ্ধে নিহত ১৭০ জনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যাদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করা হলেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি

মোট শেয়ারমোঃ: 1

১৭০ ‘সাংবাদিক’ না সন্ত্রাসী? ইসরাইল-জাতিসংঘ দাবির মাঝে সিপিজের নীরব স্বীকৃতি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধে নিহত ১৭০ জনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যাদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করা হলেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি—তারা প্রকৃতপক্ষে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য ছিলেন।

গত ১ অক্টোবর ইসরাইলি বাহিনী একটি অনলাইন ডেটাবেজ প্রকাশ করে জানায়, যুদ্ধে নিহত এই ১৭০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে পরিচিত হলেও তারা মূলত হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। ডেটাবেজে নাম, ছবি, সামরিক পরিচয় নম্বর এবং সংগঠনগুলোর নিজস্ব প্রকাশিত নথি ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধারকৃত উপকরণের ভিত্তিতে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি করা হয়। বাহিনীর ভাষ্যমতে, এদের কেউ কেউ রয়টার্স, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুসহ পরিচিত গণমাধ্যমে কাজ করলেও একই সঙ্গে স্নাইপার, কমান্ডার বা প্রচারণা-কর্মী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এক্সে দেওয়া পোস্টে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি লেখেন, সাংবাদিকেরা সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন—এই দাবির পক্ষে “শূন্য” প্রমাণ রয়েছে, আর শিগগির এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন তিনি। তার ভাষায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি “লেজিটিমাইজেশন সেল” যুদ্ধের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায় গল্প তৈরি করছে।

তবে সাংবাদিক সুরক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)—যাদের তালিকাই এত দিন গাজায় সাংবাদিক হত্যার মূল পরিসংখ্যান হিসেবে উদ্ধৃত হয়ে এসেছে—যাচাইয়ের পর নিজেদের তালিকা থেকে কয়েকটি নাম ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের উপপ্রধান তাহসিন আল-আসতাল ইসরাইলের এই দাবিকে নিহত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা খর্ব করার “পদ্ধতিগত প্রচারণা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্যে, নিহতরা স্থানীয়, আরব ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য নথিভুক্ত সাংবাদিকতার কাজেই যুক্ত ছিলেন।

বিতর্ক এখনো চলমান—আলবানিজের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত, আর সিপিজের বাকি তালিকা পুনঃপর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ১৭০ জনের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত মীমাংসা অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

মোট শেয়ারমোঃ: 1

আবু আনান

বিশেষ প্রতিবেদক

পোস্টটি কেমন লাগলো?

মন্তব্য করুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো * দ্বারা চিহ্নিত।

সম্পর্কিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত