বাবুগঞ্জে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি মানসিক অসুস্থ সামিম, গ্রিলের ভেতর থেকে শোনান কোরআন তিলাওয়াত
বরিশালের বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের সাড়ে পাঁচ আনী গ্রামে মানসিক অসুস্থতায় ভোগা সামিম হাওলাদার লোহার গ্রিলঘেরা একটি ঘরে দীর্ঘদিন বন্দি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১২ বছর আগে তিনি অসুস্থ হন। আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে পরিবার প্রথমে পায়ে শিকল পরায়, পরে ঘরে আটকে রাখে। সামিমের সত্তরোর্ধ্ব বাবা কালাম হাওলাদার চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করেছেন, ধারদেনা করেছেন। এখন তিনি নিজেও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ইউএনও আসমা উল হুসনা জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।#Barishal #Babuganj #MentalHealth #HumanInterest #MeehaNews

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের সাড়ে পাঁচ আনী গ্রামে মানসিক অসুস্থতায় ভোগা সামিম হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে টিনের ছাউনির একটি ছোট ঘরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ঘরে ঢোকা-বেরোনোর স্বাভাবিক দরজা নেই। সামনে লোহার গ্রিল, তার ফাঁক দিয়েই তাঁকে খাবার দেওয়া হয়।
সামিম মাদরাসায় দাখিল ও আলিম পর্যন্ত পড়েছেন। তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান ছিল। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১২ বছর আগে হঠাৎ তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে পথচলতি মানুষের ওপর চড়াও হতেন, পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবার প্রথমে তাঁর পায়ে শিকল পরায়। পরে বাড়ির পাশে ইটের দেওয়াল ও টিনের ছাউনিতে ছোট একটি ঘর বানিয়ে সেখানে রাখা হয়।
সামিমের চাচাতো ভাই বাবুল হোসেন বলেন, পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁকে ঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সামিমের স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামিম গ্রিলের ভেতরেই থাকেন। কেউ ডাকলে কাছে এসে কথা বলেন, তাঁর কথাবার্তায় কিছুটা স্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। গ্রিলের ভেতর থেকে তিনি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে শোনান। প্রতিবেশী হৃদয় বলেন, সামিম একসময় এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণ তাঁরা জানেন না।
ছেলের চিকিৎসায় সত্তরোর্ধ্ব বাবা কালাম হাওলাদার জমি বিক্রি করেছেন, ধারদেনা করেছেন। নানা জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও ফল মেলেনি। তিনি এখন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। কালাম হাওলাদার বলেন, তিনি আর কী করবেন, বুঝতে পারছেন না।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমতো সহযোগিতা করবে এবং প্রাথমিকভাবে ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





