মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাড়িতে মাসে ৬০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি, সরকারি সীমা ২০০–২৫০

ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাড়িতে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনায় সীমা ২০০ লিটার, সচিব পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার। করপোরেশনের জ্বালানি বরাদ্দের নিজস্ব নীতিমালা নেই। বরাদ্দ চলছে পুরোনো রীতিতে। রোগী পরিবহনের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে এক মাসে ১ হাজার ২৮ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে। এগুলো কর্মকর্তাদের বাসা-অফিস যাতায়াতে ব্যবহারের অভিযোগ আছে। প্রতিটি গাড়িতে মাসে ২৫০ লিটারে সীমিত করলে ৭৬ জন কর্মকর্তার গাড়িতে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা সাশ্রয় সম্ভব, নথির হিসাবে।#DSCC #DhakaSouth #FuelAllocation #MeehaNews

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পার্ক করা কর্মকর্তাদের গাড়ি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পার্ক করা কর্মকর্তাদের গাড়িছবি: প্রথম আলো

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের গাড়িতে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়ির জন্য সীমা মাসে ২০০ লিটার, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার। করপোরেশনের জ্বালানি বরাদ্দের নিজস্ব নীতিমালাও নেই। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করপোরেশনের অন্তত ৭৬ জন কর্মকর্তা গাড়ি ব্যবহার করেন। বাড়তি বরাদ্দের তেল চালকদের একাংশ বিক্রি করে দেন। কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তা জেনেও নীরব থাকেন বলে অভিযোগ আছে। কেউ কেউ দাপ্তরিক কাজের বাইরে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনেও চালকসহ গাড়ি ব্যবহার করেন।

প্রশাসকের একান্ত সচিব মনোয়ার হোসেনের বাসা থেকে অফিসে যাওয়া-আসার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। তাঁর গাড়িতে মাসে বরাদ্দ ৬০০ লিটার, অর্থাৎ দিনে গড়ে ২০ লিটার। এতে মাসে খরচ প্রায় ৮১ হাজার টাকা। মনোয়ার হোসেন বলেন, সব কর্মকর্তার জন্যই দৈনিক ২০ লিটার বরাদ্দ আছে, কেউ কেউ ১৫ লিটারও পান। তেল তিনি নিজে ইস্যু করেন না, পরিবহন বিভাগ থেকে দেওয়া হয়।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমানের জন্য বরাদ্দ দুটি গাড়ি। দুটিতে মাসে প্রায় ৯৩০ লিটার জ্বালানি দেওয়া হয়, খরচ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। বছরে শুধু জ্বালানিতেই ব্যয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, দ্বিতীয় গাড়িটিও তাঁর কাজে ব্যবহার হয়। খয়বর রহমান বলেন, দুটি গাড়ি থাকলেও চড়া হয় না। উত্তর সিটিতেও প্রধান নির্বাহীর জন্য দুটি গাড়ি বরাদ্দ আছে বলে তিনি জানান।

গত জুনের বরাদ্দ-নথিতে দেখা যায়, প্রশাসকের সহকারী একান্ত সচিবের গাড়িতে ৬০০ লিটার অকটেন (ব্যয় ৮৭ হাজার টাকা), প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার গাড়িতে ৫১৯ লিটার ডিজেল এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার গাড়িতে ৪৭৮ লিটার অকটেন দেওয়া হয়েছে। ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব কর্তৃক ব্যবহৃত’ একটি গাড়িতেও করপোরেশনের তহবিল থেকে ৬০০ লিটার অকটেন দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল ও মাতৃসদনের তিন কর্মকর্তার নামে রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানিও বরাদ্দ হয়। এসব অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নথিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্য দেখানো হয়েছে ‘দাপ্তরিক কাজে’। তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে এক মাসে মোট ১ হাজার ২৮ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে, খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ টাকা। একই হারে চললে বছরে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

৭৬ জন কর্মকর্তার প্রত্যেকের গাড়িতে মাসে ২৫০ লিটার ধরলে বছরে খরচ হয় ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। হিসাব হয়েছে নথিতে থাকা সর্বোচ্চ দর, লিটারপ্রতি ১৪৫ টাকায়। বর্তমানে এ খাতে বছরে খরচ প্রায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। পার্থক্য ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নিজস্ব নীতিমালা না থাকলেও সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা মানতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পরিবহন শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সচিব মশিউর রহমান খান বলেন, বরাদ্দের ভিত্তি জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা এখনো তাঁকে কিছু জানাননি। ফাইল দেখতে চাইলে অধীনস্থরা বলেছেন, আগে কেউ ফাইল দেখতে চাননি।

সরকারি যানবাহনে জ্বালানির সাধারণ সীমা ঠিক হয়েছিল ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে। ২০২০ সালে সচিব ও সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা সীমা হয়। ডিএসসিসি কোন নির্দেশনা অনুসরণ করছে, তার ব্যাখ্যা মেলেনি। করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ কয়েকবার নেওয়া হলেও তা এগোয়নি।

এর আগে গত ৯ মার্চ জারি করা এক দপ্তর আদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে কর্মকর্তাদের সরকারি গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছিল। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখার নির্দেশও ছিল।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণের অর্থে চলা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত সুবিধার সুযোগ থাকা উচিত নয়। যাঁরা নিয়ম লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং স্পষ্ট নীতিমালা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

রায়হান সাব্বির

ঢাকা প্রতিনিধি

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।